Ajker Patrika

সন্তানের জেদ ও দুষ্টামি দূর করার দোয়া

ইসলাম ডেস্ক
সন্তানের জেদ ও দুষ্টামি দূর করার দোয়া
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি

সংসারে সন্তান যেমন আনন্দের উৎস, তেমনি কখনো কখনো তার দুষ্টামি বা অতিরিক্ত জেদ বাবা-মায়ের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সবার সামনে কান্নাকাটি করা, মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়া, কিংবা জেদ করে না খেয়ে থাকা—এমন পরিস্থিতিতে অনেক বাবা-মা-ই ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, রাগ বা শাসন করে শিশুর জেদ কমানো যায় না; বরং এর জন্য প্রয়োজন মনস্তাত্ত্বিক কৌশল এবং আধ্যাত্মিক আমলের সঠিক সমন্বয়।

শিশুর জেদ সামলানোর উপায়

শিশু যখন জেদ শুরু করে, তখন তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

  • নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না দেখানো: শিশু যখন চিৎকার বা কান্না করবে, তখন আপনিও পাল্টা চিৎকার করবেন না। আপনার শান্ত থাকাটা তাকে শান্ত হতে সাহায্য করবে।
  • মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া: জেদের মূল কারণ থেকে শিশুর মনকে দ্রুত অন্য কোনো পছন্দের খেলনা বা মজার গল্পের দিকে ডাইভার্ট করুন।
  • দাবি পূরণে তাড়াহুড়ো না করা: জেদ করলেই তার ইচ্ছা পূরণ করে ফেলবেন না। এতে শিশু ভাববে যে, কান্না বা জেদ করলেই সব পাওয়া যায়। তাকে শান্ত হতে দিন, তারপর বুঝিয়ে বলুন।

অবাধ্যতা দূরীকরণে হাদিসের নির্দেশনা

মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের পাশাপাশি একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো মহান আল্লাহর কাছে দোয়া ও কোরআনিক আমল। হাদিসে এ-সংক্রান্ত একটি বিশেষ আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে।

বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ আল-মুজামুল আউসাত লিত-তাবারানির ৬৪ নম্বর হাদিসে উল্লেখ আছে,

‘যে ব্যক্তির সন্তান বা গৃহপালিত প্রাণী তাকে কষ্ট দেয় (কথা শোনে না বা অবাধ্যতা করে), সে যেন তার কানে সুরা আলে ইমরানের ৮৩ নম্বর আয়াতটি পাঠ করে।’

তাই সন্তানের অতিরিক্ত জেদ দূর করতে, তাকে শান্ত ও অনুগত করতে ইসলামবিষয়ক বিশেষজ্ঞগণ পবিত্র কোরআনের সুরা আলে ইমরানের ৮৩ নম্বর আয়াতটির আমল করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

আয়াতটি হলো:

أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ

উচ্চারণ: ‘আফাগাইরা দীনিল্লাহি ইয়াবগুনা ওয়ালাহু আসলামা মান ফিস-সামাওয়াতি ওয়াল-আরদি তাউ’আন ওয়া কারহান; ওয়া ইলাইহি ইউরজাউন।’

অর্থ: ‘তারা কি আল্লাহর দেওয়া জীবন ব্যবস্থার পরিবর্তে অন্য জীবন ব্যবস্থা তালাশ করছে? অথচ নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে—স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তাঁরই অনুগত হয়েছে। এবং সবাই তাঁর কাছেই ফিরে যাবে।’

যেভাবে আমলটি করবেন

সন্তানের জেদ কমাতে এই আমলটি অত্যন্ত কার্যকরী। নিয়মটি নিচে দেওয়া হলো:

  1. প্রতিদিন যেকোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে সন্তানের কপালের উপরিভাগের চুলে (সামনের মাথার চুলে) ডান হাত রাখুন।
  2. পরম বিশ্বাসের সঙ্গে ওপরের আয়াতটি ৭ বার পাঠ করুন।
  3. পাঠ শেষে সন্তানের মুখমণ্ডল (চেহারা) এবং দুই কানে হালকা করে ফুঁ দিন।
  4. এই আমলটি অন্তত ২১ দিন নিয়মিত (লাগাতার) করতে হবে। মাঝখানে কোনো দিন বাদ দেওয়া যাবে না।

সন্তান আল্লাহর দেওয়া এক পবিত্র আমানত। তার স্বভাব গঠনে বাবা-মায়ের আচরণের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। তাই পরিবারে সবসময় শান্ত ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখুন। সন্তানের জেদের মুহূর্তে নিজে শান্ত থেকে মনস্তাত্ত্বিক কৌশল অবলম্বন করুন এবং পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে সন্তানের জন্য চোখের পানি ফেলে দোয়া করুন। বাবা-মায়ের আন্তরিক দোয়া সাধারণত বিফলে যায় না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত