অর্চি হক

ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিংসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দিতে কী করছে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর? এসব বিষয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অর্চি হক।
আজকের পত্রিকা: ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে এগারো শ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কী করছে?
বাবলু কুমার সাহা: যারা আন্দোলন বিক্ষোভ করছে, তাদের দাবির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের কাছে যারা অভিযোগ করেছে, তাদের যাতে সর্বোচ্চ সেবা দিতে পারি, সেটা আমরা দেখব। আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। প্রতিটি আইনের একটা সীমানাপ্রাচীর আছে। আমাদের আইনে আছে—এ ধরনের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি ২ লাখ টাকা জরিমানা। এই ২ লাখ টাকা জরিমানা করলে অভিযোগকারী পাবে ৫০ হাজার টাকা। তাহলে যার ১০ লাখ, ২০ লাখ গেছে, তাদের জন্য আমার কী-ইবা করতে পারি? আরেকটা কাজ আমরা করতে পারি, সেটা হলো যারা এগুলো করছে, তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া। আমাদের আইনে এতটুকুই আছে।
আজকের পত্রিকা: ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এই আইনটাকে কঠোর করার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
বাবলু কুমার সাহা: এখন এই আইনটা সময়োপযোগী করার প্রক্রিয়া চলছে। আইনটা একবার ক্যাবিনেটে গেছে। ক্যাবিনেট তাদের পর্যবেক্ষণ দেওয়ার পর সেটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এটা দেখে আবার ক্যাবিনেটে পাঠাবে। তবে আইন যত বড়ই হোক, সেটি বড় কথা নয়। এই অধিদপ্তরের ব্যাপক প্রচার-প্রসার হলেও আমাদের জনবল কিন্তু কম। সারা বাংলাদেশে আমাদের লোকবল মাত্র ২৪০ জন। কর্মকর্তা আছেন ৮৫ জন। ৮৫ জন কর্মকর্তা দিয়ে ১৮ কোটি মানুষকে সেবা দেওয়া কঠিন। তার পরও এই অধিদপ্তর সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। যখন সারা বাংলাদেশে সাধারণ ছুটি ছিল, তখনো আমরা কাজ করেছি। ঈদের দিনেও আমাদের কাজ করতে হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি।
আজকের পত্রিকা: ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে করা অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কী করছে অধিদপ্তর?
বাবলু কুমার সাহা: আমরা ভোক্তাস্বার্থ দেখার চেষ্টা করি। যেমন ইভ্যালির অধিকাংশ অভিযোগ আমরা নিষ্পত্তি করেছি। দুই পক্ষকে ডেকে বুঝিয়ে মীমাংসা করার এখতিয়ার আছে আমাদের। ইভ্যালির ক্ষেত্রে এটা আমরা করেছি। অভিযোগকারী হয় পণ্য, না হয় টাকা পেয়ে গেছে। কিন্তু ই-অরেঞ্জের ক্ষেত্রে বিষয়টা একেবারেই ভিন্ন। এখানে কোনো মালিকপক্ষই পাওয়া যাচ্ছে না। সে কারণে আমরা অপেক্ষা করছি। দেখা যাক কী হয়। আমাদের অধিদপ্তরের আইন তো খুব বড় নয়। দেশে প্রচলিত আরও অনেক বড় বড় আইন আছে। ভোক্তাদের উদ্দেশে আমার কথা হলো, আপনারা দয়া করে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো দেখে বুঝে-শুনে তারপর ওদের থেকে পণ্য অর্ডার করুন।
আজকের পত্রিকা: ই-অরেঞ্জ গ্রাহকেরা বলছেন, তাঁরা ইক্যাব সদস্যপদ দেখে এবং পাশাপাশি একজন সাংসদের কথায় আস্থা রেখে প্রতিষ্ঠানটিতে পণ্য অর্ডার করেছিলেন।
বাবলু কুমার সাহা: অন্য কারও বিষয়ে আমি বলতে চাই না। প্রতিষ্ঠানগুলো অর্ধেক দামে পণ্য দেওয়ার নামে ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। যে পণ্যগুলোর তারা উৎপাদক না, সেটা কীভাবে তারা অর্ধেক মূল্যে দেবে, এ বিষয়টা ক্রেতার উচিত ভেবে দেখে তারপর টাকাটা দেওয়া। মানুষ ২০ লাখ, ৫০ লাখ, কেউ আবার ১ কোটি টাকা দিয়েছে। এরা কি ভোক্তা, নাকি ব্যবসায়ী? একটা মানুষের কয়টা মোটরসাইকেল দরকার? আমি দেখলাম, যাঁরা অভিযোগ করছেন, ৯৯ শতাংশেরই মোটরসাইকেল অর্ডার করা। যুবক, ডেসটিনির ঘটনা আমাদের জানা। ইতিহাস থেকে তো মানুষ শিক্ষা নেয়। তাহলে আমরা কেন শিক্ষা নিচ্ছি না? মুলা ঝুলিয়ে দিল ৭ টাকার জিনিস আপনাকে ৩ টাকায় দেওয়া হবে। আর মানুষও কোটি কোটি টাকা দিয়ে দিল। অধিদপ্তরটার নাম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, ব্যবসায়ী অধিকার সংরক্ষণ নয়। একজনের ১৫টা মোটরসাইকেল কেন লাগবে? যুক্তিসংগত কোনো কারণ আছে? এগুলো নিয়েও বিশ্লেষণ করা উচিত।
আজকের পত্রিকা: ভোক্তাকে সচেতন করতে অধিদপ্তর কী করছে?
বাবলু কুমার সাহা: ভোক্তাকে সচেতন করার জন্য আমরা পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিচ্ছি। আমরা বারবার বলছি, অনলাইনে ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলি যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে ক্রয় করুন। আমরা নিয়মিতভাবে ভোক্তাদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। কখনো সরাসরি মিটিং করে, কখনো পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই অধিদপ্তর ভোক্তাদের সচেতন করতে কাজ করছে।

ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিংসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দিতে কী করছে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর? এসব বিষয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অর্চি হক।
আজকের পত্রিকা: ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে এগারো শ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কী করছে?
বাবলু কুমার সাহা: যারা আন্দোলন বিক্ষোভ করছে, তাদের দাবির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের কাছে যারা অভিযোগ করেছে, তাদের যাতে সর্বোচ্চ সেবা দিতে পারি, সেটা আমরা দেখব। আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। প্রতিটি আইনের একটা সীমানাপ্রাচীর আছে। আমাদের আইনে আছে—এ ধরনের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি ২ লাখ টাকা জরিমানা। এই ২ লাখ টাকা জরিমানা করলে অভিযোগকারী পাবে ৫০ হাজার টাকা। তাহলে যার ১০ লাখ, ২০ লাখ গেছে, তাদের জন্য আমার কী-ইবা করতে পারি? আরেকটা কাজ আমরা করতে পারি, সেটা হলো যারা এগুলো করছে, তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া। আমাদের আইনে এতটুকুই আছে।
আজকের পত্রিকা: ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এই আইনটাকে কঠোর করার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
বাবলু কুমার সাহা: এখন এই আইনটা সময়োপযোগী করার প্রক্রিয়া চলছে। আইনটা একবার ক্যাবিনেটে গেছে। ক্যাবিনেট তাদের পর্যবেক্ষণ দেওয়ার পর সেটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এটা দেখে আবার ক্যাবিনেটে পাঠাবে। তবে আইন যত বড়ই হোক, সেটি বড় কথা নয়। এই অধিদপ্তরের ব্যাপক প্রচার-প্রসার হলেও আমাদের জনবল কিন্তু কম। সারা বাংলাদেশে আমাদের লোকবল মাত্র ২৪০ জন। কর্মকর্তা আছেন ৮৫ জন। ৮৫ জন কর্মকর্তা দিয়ে ১৮ কোটি মানুষকে সেবা দেওয়া কঠিন। তার পরও এই অধিদপ্তর সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। যখন সারা বাংলাদেশে সাধারণ ছুটি ছিল, তখনো আমরা কাজ করেছি। ঈদের দিনেও আমাদের কাজ করতে হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি।
আজকের পত্রিকা: ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে করা অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কী করছে অধিদপ্তর?
বাবলু কুমার সাহা: আমরা ভোক্তাস্বার্থ দেখার চেষ্টা করি। যেমন ইভ্যালির অধিকাংশ অভিযোগ আমরা নিষ্পত্তি করেছি। দুই পক্ষকে ডেকে বুঝিয়ে মীমাংসা করার এখতিয়ার আছে আমাদের। ইভ্যালির ক্ষেত্রে এটা আমরা করেছি। অভিযোগকারী হয় পণ্য, না হয় টাকা পেয়ে গেছে। কিন্তু ই-অরেঞ্জের ক্ষেত্রে বিষয়টা একেবারেই ভিন্ন। এখানে কোনো মালিকপক্ষই পাওয়া যাচ্ছে না। সে কারণে আমরা অপেক্ষা করছি। দেখা যাক কী হয়। আমাদের অধিদপ্তরের আইন তো খুব বড় নয়। দেশে প্রচলিত আরও অনেক বড় বড় আইন আছে। ভোক্তাদের উদ্দেশে আমার কথা হলো, আপনারা দয়া করে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো দেখে বুঝে-শুনে তারপর ওদের থেকে পণ্য অর্ডার করুন।
আজকের পত্রিকা: ই-অরেঞ্জ গ্রাহকেরা বলছেন, তাঁরা ইক্যাব সদস্যপদ দেখে এবং পাশাপাশি একজন সাংসদের কথায় আস্থা রেখে প্রতিষ্ঠানটিতে পণ্য অর্ডার করেছিলেন।
বাবলু কুমার সাহা: অন্য কারও বিষয়ে আমি বলতে চাই না। প্রতিষ্ঠানগুলো অর্ধেক দামে পণ্য দেওয়ার নামে ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। যে পণ্যগুলোর তারা উৎপাদক না, সেটা কীভাবে তারা অর্ধেক মূল্যে দেবে, এ বিষয়টা ক্রেতার উচিত ভেবে দেখে তারপর টাকাটা দেওয়া। মানুষ ২০ লাখ, ৫০ লাখ, কেউ আবার ১ কোটি টাকা দিয়েছে। এরা কি ভোক্তা, নাকি ব্যবসায়ী? একটা মানুষের কয়টা মোটরসাইকেল দরকার? আমি দেখলাম, যাঁরা অভিযোগ করছেন, ৯৯ শতাংশেরই মোটরসাইকেল অর্ডার করা। যুবক, ডেসটিনির ঘটনা আমাদের জানা। ইতিহাস থেকে তো মানুষ শিক্ষা নেয়। তাহলে আমরা কেন শিক্ষা নিচ্ছি না? মুলা ঝুলিয়ে দিল ৭ টাকার জিনিস আপনাকে ৩ টাকায় দেওয়া হবে। আর মানুষও কোটি কোটি টাকা দিয়ে দিল। অধিদপ্তরটার নাম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, ব্যবসায়ী অধিকার সংরক্ষণ নয়। একজনের ১৫টা মোটরসাইকেল কেন লাগবে? যুক্তিসংগত কোনো কারণ আছে? এগুলো নিয়েও বিশ্লেষণ করা উচিত।
আজকের পত্রিকা: ভোক্তাকে সচেতন করতে অধিদপ্তর কী করছে?
বাবলু কুমার সাহা: ভোক্তাকে সচেতন করার জন্য আমরা পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিচ্ছি। আমরা বারবার বলছি, অনলাইনে ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলি যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে ক্রয় করুন। আমরা নিয়মিতভাবে ভোক্তাদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। কখনো সরাসরি মিটিং করে, কখনো পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই অধিদপ্তর ভোক্তাদের সচেতন করতে কাজ করছে।

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পেশায় চিকিৎসক। দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করেন। কিন্তু কখনো নির্বাচন করেননি। এবার তাঁকেই রাজশাহী-২ (সদর) আসনে দলীয় প্রার্থী করেছে জামায়াতে ইসলামী। সেসব নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন...
৫ ঘণ্টা আগে
বগুড়া-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজ। ইতিপূর্বে তিনি টানা চারবার এখান থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৯ সালে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনেও জয়লাভ করেন। শিক্ষা, অবকাঠামো ও স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে।
২১ ঘণ্টা আগে
রাজশাহী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। ১৯৯১ সালে প্রথম রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর আরও দুবার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ সালে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে সংসদ সদস্য হন। দলের সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আজকের পত্রিকার...
২ দিন আগে
এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন তাসনিম জারা। ঢাকা-৯ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনি। যদিও তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তিনি এর বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। জনসংযোগ চলাকালে আজকের পত্রিকাকে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন অর্চি হক।
১০ দিন আগে