
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেদিন দ্বিতীয় মেয়াদের শপথ নেন, সেদিন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক বলেছিলেন, ‘জয়ের অনুভূতি হয়তো সত্যিই এমন।’ তিনি আরও বলেছিলেন, ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি দারুণ আশাবাদী...আশাবাদ তো আমেরিকার অন্যতম প্রিয় মূল্যবোধ।’ কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও ইলন মাস্কের জন্য আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি।
কেবল ইলন মাস্কের ক্ষেত্রেই নয়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ১০০তম দিন পার হতে না-হতেই ইলন মাস্কসহ অনেক বিলিয়নিয়ারের জন্যই সেই আশাবাদ অনেকটাই মলিন হয়ে গেছে। ৫০ বছরের মধ্যে শেয়ারবাজার সবচেয়ে খারাপ সূচনা দেখেছেন তাঁরা, শুল্কযুদ্ধের কারণে এসঅ্যান্ডপি-৫০০ ও ডাউ জোন্স উভয় সূচক প্রায় ৮ শতাংশ পড়ে গেছে।
এই ধাক্কায় সবচেয়ে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইলন মাস্ক। ট্রাম্পের শপথের পর থেকে তাঁর সম্পদ ৪৫ বিলিয়ন ডলার কমেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির প্রবক্তা পিটার নাভারোর সঙ্গে তিনি প্রকাশ্যে বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন এবং সরকারি দক্ষতাসংক্রান্ত একটি বিভাগে কাজ করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দাম ৩৩ শতাংশ কমে যাওয়ায়—যার পেছনে রয়েছে শুল্কভীতি এবং মাস্কের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে জনসমর্থন হারানো—তাঁকে এখন পুরো মনোযোগ টেসলার দিকেই দিতে হচ্ছে।
তবে শুধু মাস্ক নন, ট্রাম্প ২.০ যুগে বহু ধনী মার্কিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ হারিয়েছেন। শপথের দিন থেকে এখন পর্যন্ত আমেরিকার ৮০০ জন বিলিয়নিয়ারের সম্মিলিত সম্পদ ৩০০ বিলিয়ন ডলার কমে গেছে। মাস্ক ছাড়াও এই ক্ষতিগ্রস্তদের শীর্ষে রয়েছেন জেফ বেজোস, সের্গেই ব্রিন ও মার্ক জাকারবার্গ। তাঁরা ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে সম্মানজনক আসনে ছিলেন, কিন্তু তার পর থেকে যথাক্রমে ৩৫, ২৬ ও ২২ বিলিয়ন ডলার করে হারিয়েছেন।
অন্যান্য ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ ধনকুবেরদের অবস্থাও ভালো না। যেমন ওরাকলের ল্যারি এলিসনের সম্পদ কমেছে ২৮ বিলিয়ন ডলার, স্টিফেন শোয়ার্জম্যানের ১১ বিলিয়ন ডলার। এলিসন শপথের পরদিন ট্রাম্পের সঙ্গে একটি ৫০০ বিলিয়ন ডলারের এআই প্রকল্প নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। শোয়ার্জম্যান প্রথমে ট্রাম্পকে সমর্থন না করার ঘোষণা দিলেও পরে অবস্থান পাল্টান।
তবে সব ধনকুবেরের জন্য সময়টা খারাপ যাচ্ছে না। ওয়ারেন বাফেট তাঁর বার্কশায়ার হ্যাথওয়ে কোম্পানিকে স্থিতিশীল রেখে ২০ বিলিয়ন ডলার সম্পদ বাড়িয়েছেন। তিনি আগে থেকেই শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ধরে রেখেছিলেন। পিটার থিয়েল ও আলেকজান্ডার কার্পের সম্পদও যথাক্রমে ৪ দশমিক ৯ ও ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে, কারণ তাদের কোম্পানি পালান্টির মার্কিন সরকার থেকে বড় অর্ডার পেয়েছে।
ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের জীবিত তিন সন্তান প্রত্যেকে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ বাড়িয়েছেন। মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রেতারা সাশ্রয়ী দোকানের প্রতি ঝুঁকছে বলে তাদের কোম্পানি লাভবান হয়েছে। ওয়ালমার্টের বর্তমান সিইও ডগ ম্যাকমিলন ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে শুল্ক-বিরোধী অবস্থান জানিয়েছেন।
মাইক্রোসফটের সাবেক সিইও স্টিভ বালমার আট বিলিয়ন ডলার হারালেও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে লাভবান হয়েছেন। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোম্পানি রিপাবলিক সার্ভিসেসে ৩৫ শতাংশ মালিকানা ধরে রেখেছেন, যার দাম ১৫ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও আর্থিক ক্ষতির শিকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার সম্পদ ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার কমেছে। ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের শেয়ারের দাম ৩৫ শতাংশ পড়ে গেছে, যা সামগ্রিক বাজারের পতনের চেয়ে অনেক বেশি।
তবে তিনি এখনো কিছু ধনকুবেরের সাফল্য নিয়ে গর্বিত। ৯ এপ্রিল ট্রাম্প ওভাল অফিসে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, চার্লস শোয়াব সেদিন আড়াই বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন এবং রজার পেনস্কি আয় করেছেন ৯০০ মিলিয়ন ডলার। যদিও শোয়াবের নিট সম্পদ বেড়েছে মাত্র ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার আর পেনস্কির সম্পদ বরং কমেছে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

কানাডায় অনলাইনে বিষাক্ত রাসায়নিক বিক্রি করে আত্মহত্যায় সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত কেনেথ ল’ নামের এক ব্যক্তি আদালতে ১৪টি অভিযোগ স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (২৯ মে) অন্টারিওর একটি আদালতে ৬০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিজের দোষ স্বীকার করেন।
১২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন এক ফেডারেল বিচারক। ট্রাম্প এই তহবিলকে সরকারের ‘অস্ত্রায়ন’ বা রাজনৈতিক উদ্দেশে ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
হাকিমপুর সীমান্তচৌকিতে দুই দিন ধরে সন্তান ও পরিবার নিয়ে অপেক্ষা করছেন বহু মানুষ। তাঁদের শঙ্কা—ভারতে থাকলে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হবে। তাই অনেকে যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে ঢুকতে চান।
১৫ ঘণ্টা আগে
কিশোরী মেয়ের সঙ্গে বাড়িতে দেখা করতে আসতেন এক তরুণ। এমনকি মাঝেমধ্যে মেয়ের সঙ্গে রাতও কাটাতেন ওই তরুণ। মা জানতেন, তরুণটি মেয়ের বয়ফ্রেন্ড। কিন্তু শিগগির তিনি জানতে পারেন, ওই তরুণ এক যৌন নিপীড়ক। আদালতে দণ্ডও পেয়েছেন। কিন্তু সেসব তথ্য গোপন করে তিনি কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন।
১৬ ঘণ্টা আগে