Ajker Patrika

মার্কিন সীমান্তে ৪ হাজার বছরের পুরোনো ইরানি তলোয়ার জব্দ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৮: ৫০
মার্কিন সীমান্তে ৪ হাজার বছরের পুরোনো ইরানি তলোয়ার জব্দ
ফিলাডেলফিয়া অঙ্গরাজ্যের সীমান্ত কর্মকর্তারা ব্রোঞ্জ যুগের এসব তলোয়ার ও তিরের ফলা জব্দ করেছেন। ছবি: সিবিপি

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া অঙ্গরাজ্যের সীমান্ত কর্মকর্তারা ব্রোঞ্জ যুগের (প্রায় চার হাজার বছরের পুরোনো) একগুচ্ছ তলোয়ার ও তিরের ফলা জব্দ করেছেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, এই অমূল্য প্রত্নসম্পদগুলো ইরান থেকে লুট করা হয়েছে।

মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ৩৬টি তামার (সংকর ধাতু) তৈরি ছোট তলোয়ার এবং ৫০টি তিরের ফলা জব্দ করে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৬ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে একটি এক্সপ্রেস ডেলিভারি ফ্লাইটে চালানটি ফিলাডেলফিয়ায় পৌঁছায়। এর গন্তব্য ছিল ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল।

গত সপ্তাহে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর আগেই মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে চলমান অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে প্রাচীন এই অস্ত্রগুলো পাচার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চালানটিতে ‘ধাতব ডেকোরেটিভ সামগ্রী’ বা ঘর সাজানোর জিনিস রয়েছে বলে বলা হয়েছিল। কিন্তু এক্স-রে করার সময় কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। কারণ, সেখানে তলোয়ারের মতো আকৃতি দেখা যাচ্ছিল। প্যাকেজটি খোলার পর সেখানে প্রাচীন সব অস্ত্রের স্তূপ দেখে নিশ্চিত হন তাঁরা। এরপর কালচারাল আর্টিফ্যাক্ট বা সাংস্কৃতিক সম্পদ পাচারের সন্দেহে চালানটি অধিকতর তদন্তের জন্য আটকে দেওয়া হয়।

তদন্তের স্বার্থে নর্থ টার্গেটিং সেন্টারের অ্যান্টিকুইটি ইউনিটের বিশেষজ্ঞ এবং ফিলাডেলফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অভিজ্ঞ প্রত্নতাত্ত্বিকের সহায়তা নেওয়া হয়। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ওই প্রত্নতাত্ত্বিক নিশ্চিত করেন, অস্ত্রগুলো খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের (১৬০০ থেকে ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)। এগুলো ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিম কাস্পিয়ান সাগর উপকূলের তালিশ পর্বত অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের সন্দেহ, প্রাচীন এই সম্পদগুলো কবরস্থান খুঁড়ে অবৈধভাবে লুট করা হয়েছে।

ফিলাডেলফিয়ার সিবিপির ভারপ্রাপ্ত এরিয়া পোর্ট ডিরেক্টর এলিয়ট এন অর্টিজ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘কাস্টমস কর্মকর্তারা ভিনদেশের ঐতিহ্য লুটকারী আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের হাত থেকে সাংস্কৃতিক নিদর্শন উদ্ধারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই সম্পদগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা কেবল আমাদের আমদানিনীতির লঙ্ঘনই নয়, বরং সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অখণ্ডতা রক্ষার প্রচেষ্টাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’

জব্দ করা এই সম্পদগুলো বর্তমানে সিবিপির হেফাজতে রয়েছে। যথাযথ তদন্তের পর এগুলোকে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত