Ajker Patrika

মার্কিন কৌশলপত্রে উগ্র ইসলামপন্থার মূল শিকড় এখন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মার্কিন কৌশলপত্রে উগ্র ইসলামপন্থার মূল শিকড় এখন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’
মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকেরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস ২০২৬ সালের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলপত্রে মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘আধুনিক ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদের মূল শিকড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে ইরানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বুধবার (৭ মে) প্রকাশিত এই নথিতে ইসলামপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী, লাতিন আমেরিকার মাদকচক্রভিত্তিক ‘নার্কো-সন্ত্রাসী’ এবং বামপন্থী উগ্রবাদীদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাউন্টার-টেররিজম পরিচালক সেবাস্টিয়ান গোরকা সাংবাদিকদের জানান, গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই কৌশলপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। গোরকা বলেন, ‘আমেরিকা আমাদের মাতৃভূমি এবং এটিকে অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে।’ এই নীতির ভিত্তিতেই নতুন কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নথিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্ব এমন এক নতুন ধরনের সহিংস বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী ও রাষ্ট্র-সমর্থিত অ-রাষ্ট্রীয় শক্তি গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। এ কারণে পুরোনো সন্ত্রাসবিরোধী পদ্ধতিগুলো এখন আর যথেষ্ট কার্যকর নয়।

নতুন কৌশলের প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে মাদকচক্র দমনের কথা বলা হয়েছে। এরপরই রয়েছে আল-কায়েদা, আইএস এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান। মুসলিম ব্রাদারহুডের লেবানন, জর্ডান ও মিশর শাখাকে এই বছর সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গোরকা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন সহিংস ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী, বিশেষ করে অ্যান্টিফা-এর মতো বামপন্থী সংগঠনগুলোকেও নজরদারিতে রাখবে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, কৌশলপত্রে ডানপন্থী উগ্রবাদের কথা প্রায় উল্লেখই করা হয়নি, যদিও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় উগ্রবাদের পর রাজনৈতিক সহিংসতার অন্যতম বড় কারণ ডানপন্থী মতাদর্শ।

মধ্যপ্রাচ্য প্রসঙ্গে নথিতে বলা হয়েছে—ইরান তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার মাধ্যমে সরাসরি এবং হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীকে অর্থায়নের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা, সাইবার ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়েছে।

আফ্রিকাকেও নতুন কৌশলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে আল-কায়েদা ও আইএস-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান তৎপরতা, বিশেষ করে সাহেল অঞ্চলে খ্রিষ্টানদের ওপর হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা আফ্রিকাকে নিজেদের আদলে গড়তে চায় না, তবে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে ‘দায়মুক্তির সঙ্গে খ্রিষ্টান হত্যা’ করতে দেবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ধর্ষক মসজিদের ইমাম নয়, বড় ভাই—ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত

গভর্নর রাজি নন, বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের শপথ আজ হচ্ছে না

তিস্তা প্রকল্পসহ ১০ দফার যৌথ বিবৃতিতে যা বলল বাংলাদেশ-চীন

‘পুশইন’ ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান ভারতের

অবৈধ মানব পাচার: প্রথম বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত