
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যেন নিজের ‘পশ্চাদ্দেশ’ সামলে চলেন। ভেনেজুয়েলায় ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ শুরুর প্রায় এক দিন পর নিকোলা মাদুরোকে নিউইয়র্কের কারাগারে নেওয়ার পরবর্তী উত্তপ্ত সময়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন।
ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি কোকেন তৈরি করছেন এবং সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে, তাই তাঁকে নিজের পশ্চাদ্দেশ সামলে চলতেই হবে।’ ঘনিষ্ঠ মিত্র মাদুরোর নাম উল্লেখ না করেই পেত্রো ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে লাতিন আমেরিকার ‘সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং বলেন, এর ফলে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হবে।
কথিত মাদক পাচারকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে ক্যারিবীয় অঞ্চলে ট্রাম্পের নির্দেশে যে সেনা মোতায়েন হয়েছে, পেত্রো শুরু থেকেই তার কড়া সমালোচক। মাদকবিরোধী কৌশলের অংশ হিসেবে ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, কলম্বিয়ার মাদক উৎপাদনকারী কারখানাগুলোতে হামলা চালানোর বিষয়টি তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। পেত্রো একে আক্রমণের হুমকি হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন।
কারাকাস থেকে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরে নিয়ে আসার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে দেশটি ‘পরিচালনা’ করবে। তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ না আমরা একটি নিরাপদ, যথাযথ এবং বিচক্ষণ রূপান্তর সম্পন্ন করতে পারছি, ততক্ষণ আমরাই দেশটি চালাব।’ তিনি আরও যোগ করেন, প্রয়োজন পড়লে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়বার এবং আরও বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত।
লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার আধিপত্য নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন তোলা হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের চারপাশে ভালো প্রতিবেশী চাই। আমরা চাই স্থিতিশীলতা। আমরা চাই জ্বালানি। ওই দেশে প্রচুর জ্বালানি সম্পদ রয়েছে। আমাদের জন্য সেটা রক্ষা করা খুব জরুরি। ওটা আমাদের নিজেদের জন্যই প্রয়োজন।’
ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। দেশটি আবারও ‘মহান’ করার জন্য যা যা করা দরকার, দেলসি তা করবেন বলে ট্রাম্প বিশ্বাস করেন। তবে বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো দেশে কতটা জনসমর্থন পাবেন, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় নেত্রী হওয়া তাঁর (মাচাদো) জন্য খুব কঠিন হবে। দেশের ভেতর তার সেই সমর্থন বা শ্রদ্ধা নেই। তিনি খুব ভালো একজন নারী হতে পারেন, কিন্তু সেই সম্মানটা তাঁর নেই।’
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সে দেশে তাদের তেল কোম্পানিগুলোকে পাঠাবে। ‘ভয়াবহভাবে ভেঙে পড়া তেল অবকাঠামো’ মেরামতের জন্য শত কোটি ডলার খরচ করবে এবং দেশের জন্য অর্থ উপার্জন করবে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো, যারা কি না বিশ্বের শ্রেষ্ঠ, তারা ওখানে যাবে। শত কোটি ডলার খরচ করে ভেঙে পড়া অবকাঠামো মেরামত করবে এবং মুনাফা করা শুরু করবে। তবে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বহাল থাকছে। মার্কিন নৌবহর আগের অবস্থানেই মোতায়েন আছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সামরিক পথ খোলা রাখা হয়েছে।’
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আভাস দিয়েছেন—ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে কিউবা। ভেনেজুয়েলা এবং কিউবা—উভয় দেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, ‘আমি যদি হাভানায় থাকতাম এবং সরকারের অংশ হতাম, তবে অন্তত কিছুটা হলেও চিন্তিত হতাম।’
লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ১৯৬১ সালে ফিদেল কাস্ত্রোকে উৎখাত করার লক্ষ্যে কিউবান নির্বাসিত ব্যক্তিদের নিয়ে চালানো ব্যর্থ ‘বে অব পিগস’ অভিযানেও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছিল।
ট্রাম্প আরও বলেন, মেক্সিকোকে নিয়েও কিছু একটা ‘করতে হবে।’ দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম ভালো নারী হলেও তিনি দেশ চালাতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘শেইনবাউমের সঙ্গে আমাদের খুব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, তিনি চমৎকার একজন মানুষ। কিন্তু মেক্সিকো চালাচ্ছে ড্রাগ কার্টেলগুলো। তিনি মেক্সিকো চালাচ্ছেন না।’ ট্রাম্প জানান, তিনি শেইনবাউমকে বহুবার জিজ্ঞেস করেছেন, ‘আপনি কি চান আমরা এই কার্টেলগুলোকে খতম করে দিই?’ কিন্তু শেইনবাউম প্রতিবারই না বলে দিয়েছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ‘মৃত্যু’ হয়েছে উল্লেখ করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাসিত ইরানি রাজপুত্র রেজা পাহলভি। বাংলাদেশ সময় রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যার পর এক্স-এ দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি প্রয়াত খামেনিকে ইরানি পুরাণের কুখ্যাত অত্যাচারী রাজা ‘জাহাক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
২৬ মিনিট আগে
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথম মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
৩২ মিনিট আগে
ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বাহিনীর হামলায় ‘জামারান-ক্লাস’ করভেট (ছোট যুদ্ধজাহাজ) নামে ইরানি নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে।
৩৭ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে এবার সরাসরি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, ইরানের বিশেষ বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই রণতরি লক্ষ্য করে চারটি...
১ ঘণ্টা আগে