Ajker Patrika

হাসপাতালে ভর্তি ও অন্যান্য অধিকার বহালের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন ইমরান খানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ১০: ২২
হাসপাতালে ভর্তি ও অন্যান্য অধিকার বহালের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন ইমরান খানের
কারাবন্দী আছেন ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করার আদেশ দিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। গতকাল সোমবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদন জানান তিনি। একইসঙ্গে, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ, পরিবার ও আইনজীবীদের প্রবেশাধিকার এবং তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য পরিবারের কাছে সরবরাহের নির্দেশনা চেয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল সোমবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন ইমরান খান এবং অনুরোধ জানান, তাঁকে যেন ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এর আগে, সুপ্রিম কোর্টে একই ধরনের আবেদন করেছিলেন ইমরান খানের বোন ডা. উজমা খান। তিনি ইসলামাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করেন। সেই রায়ে ইমরান খানকে এসব সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছিল। ইমরান খানের তরফ থেকে নতুন এই আবেদন দাখিল করেছেন সিনিয়র আইনজীবী উজাইর কারামত ভান্ডারি। আবদনে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ১২ মার্চের ইসলামাবাদ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়েছেন।

আবেদনকে নিয়মিত আপিলে রূপান্তরের অনুরোধ জানিয়ে ইমরান খান আদালতের কাছে অবিলম্বে তার পছন্দের চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশনা চেয়েছেন। ওই চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন—ডা. খুররম মির্জা, ডা. আসিম ইউসুফ, ডা. ফয়সাল সুলতান এবং ডা. সামিনা নিয়াজী।

এ ছাড়া তাঁকে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালে স্থানান্তর, কারাবন্দি ও চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের কাছে আরও অনুরোধ করা হয়েছে—গত চার মাসের তাঁর সম্পূর্ণ চিকিৎসা নথি—যার মধ্যে চোখের পরীক্ষার রিপোর্ট, ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট ও রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট অন্তর্ভুক্ত—পরিবারের কাছে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হোক। একই সঙ্গে চিকিৎসা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত প্রক্রিয়া চলাকালে পরিবার, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের নিয়মিত অবহিত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খানের ডান চোখের অবস্থা মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টে অ্যামিকাস কিউরি সালমান সফদার যে প্রতিবেদন জমা দেন, সেখানে বলা হয়, ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন’ নামের রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর ডান চোখে এখন মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট আছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবরের তিন থেকে চার মাস আগে থেকেই তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে ঝাপসা দেখার সমস্যার কথা বারবার জানিয়েছিলেন। কিন্তু সময়মতো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় তিন মাস ধরে তাকে শুধু আই ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। পরে তার চোখে গুরুতর ও অপরিবর্তনীয় ক্ষতি দেখা দেয়।

আবেদনে সতর্ক করা হয়েছে—এই রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা হৃদ্যন্ত্র বা মস্তিষ্কে পৌঁছে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, যা কারাগারের ভেতরে সম্ভব নয়।

এ ছাড়া, কারাবন্দি ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির আইনজীবীরা দুর্নীতির মামলায় দণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে যুক্তিতর্ক শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তারা এই সময়সীমাকে ‘কঠোর, অযৌক্তিক ও অন্যায্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। ব্যারিস্টার সালমান সাফদার ইসলামাবাদ হাইকোর্টে পৃথক দুটি আবেদন দাখিল করে বলেন, ৩০ এপ্রিলের আদেশে যেভাবে যুক্তিতর্ক শেষের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা মামলার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এটি ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড মামলার নতুন অগ্রগতি। মামলাটি আল কাদির ট্রাস্ট মামলাও নামে পরিচিত। এই মামলায় পিটিআই নেতাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে। ইমরান খান ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট থেকে আরেকটি মামলায়ও কারাবন্দি। সেই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

ইসলামাবাদের একটি জবাবদিহি আদালত ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে দোষী সাব্যস্ত করে। সেখানে ইমরান খানকে ১৪ বছর এবং বুশরা বিবিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তাঁরা ইসলামাবাদ হাইকোর্টে ওই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন। মে মাসে হাইকোর্ট তাদের সাজা স্থগিতের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত বলেছিল, মূল আপিলের শুনানির তারিখ ইতোমধ্যে নির্ধারিত রয়েছে।

তাদের আইনজীবীর নতুন আবেদনে বলা হয়েছে, বিবাদী পক্ষ ‘মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত করার কোনো চেষ্টা করেনি।’ নথিতে উল্লেখ করা হয়, আদালতের আদেশের আগে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রতিরক্ষা দল কোনো মুলতবির আবেদন করেনি। প্রথমবার শুনানি পেছানোর আবেদন করা হয়েছিল ৭ মে, সেটিও ‘যৌক্তিক কারণে।’ আবেদনে আরও বলা হয়, ৩০ এপ্রিলের আদেশে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার আইনগত অধিকার তাদের রয়েছে।

পৃথক আবেদনে সালমান সাফদার অভিযোগ করেন, কারাগারে তাঁর মক্কেলদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং সুপ্রিম কোর্টে আপিল দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে স্বাক্ষর নেওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। আবেদন অনুযায়ী, কারা কর্তৃপক্ষ উকালতনামা ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নথিতে স্বাক্ষরের ব্যবস্থা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এসব নথি ছাড়া ৩০ এপ্রিলের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা সম্ভব নয়।

আইনজীবী ইসলামাবাদ হাইকোর্টের কাছে আবেদন করেছেন, যেন কারা কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ও বুশরা বিবির সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন নিশ্চিত করা হয়, যাতে আর বিলম্ব ছাড়াই আপিল করা যায়।

এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পিটিআই সরকারের সময় যুক্তরাজ্য থেকে শনাক্ত ও ফেরত আনা ৫০ বিলিয়ন রুপি বৈধ করার বিনিময়ে এই দম্পতি বাহিরা টাউন লিমিটেডের কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন রুপি ও শত শত কানাল জমি গ্রহণ করেছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অফিসকে বাসা বানিয়ে থাকছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী

বগুড়ায় ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা: সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

আইন করে নতুন নামে এলিট ফোর্স করার কথা ভাবা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কোরবানির ঈদে সংবাদপত্রে পাঁচ দিনের ছুটি

সাংবাদিক পেটানো সেই ডিসি এবার এনসিপির নারী কর্মীর গায়ে হাত দিলেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত