Ajker Patrika

আগামীকাল পাকিস্তান আসছে ইরানি প্রতিনিধিদল: আনাদোলুর প্রতিবেদন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আগামীকাল পাকিস্তান আসছে ইরানি প্রতিনিধিদল: আনাদোলুর প্রতিবেদন
সর্বশেষ আলোচনায় যোগ দিতে পাকিস্তান যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদল। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ দখল করা সত্ত্বেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশ নিতে পারে তেহরান। আজ সোমবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। তবে, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—তারা আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র দুটি জানিয়েছে, ইরানের প্রতিনিধিদল আগামীকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেনি তেহরান। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা আলোচনায় অংশ নেওয়া একই প্রতিনিধিদলই এবারও আসবে। সেই দলে নেতৃত্ব দেবেন পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ এবং সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। দলে আরও থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তারা সোমবার গভীর রাতে অথবা মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন বলে জানা গেছে। ভ্যান্স আলাদাভাবে আসতে পারেন বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। এরই মধ্যে গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুটি বিমান ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে বলে পাকিস্তানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এই বিমানগুলোতে অগ্রবর্তী প্রতিনিধি ও নিরাপত্তা সদস্যরা ছিলেন।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এখনো ইসলামাবাদে প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে সব ধরনের যৌক্তিক ও কূটনৈতিক পথ ব্যবহার করা উচিত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও অবিশ্বাস ‘অস্বীকার করা যায় না এমন প্রয়োজন।’

এদিকে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই পক্ষের বিরোধ তীব্র আকার নিয়েছে। ইরান সেখানে চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি রেখেছে এবং রোববার সেই অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি ইরানি জাহাজ দখল করেছে।

অপরদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাতের সমাধান খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আয়োজনের কারণে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি আজ সোমবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস পরিদর্শন করে আসন্ন আলোচনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি বুধবার শেষ হবে।

রাজধানী ইসলামাবাদের পাশাপাশি পাশের গ্যারিসন শহর রাওয়ালপিন্ডিতেও জোরদার নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাজারো নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

গত ১১-১২ এপ্রিল পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করে। ১৯৭৯ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর সেটিই ছিল প্রথম এমন উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ। তবে সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ নামে পরিচিত এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায়। তাদের উদ্যোগেই ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

এরই মধ্যে সোমবার উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করেছে এবং তেহরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, যা ইসলামাবাদের আলোচনার ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেন, ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনী একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজকে আটকে অচল করে দেয়, যা মার্কিন অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। বর্তমানে জাহাজটি মার্কিন মেরিনদের হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনার পর ইরান ‘শিগগিরই’ প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। তাদের দাবি, এটি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত