
ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর, গতকাল রোববার পুরো পাকিস্তানজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেশজুড়ে ২০ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে করাচিতে ১০ জন, স্কার্দুতে অন্তত ৮ জন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে ২ জন রয়েছেন। পাকিস্তানের শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভগুলো বড় আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। আর তাতেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৫ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তান মূলত সুন্নি প্রধান হলেও, মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের বেশি শিয়া মুসলিম যারা সারা দেশে ছড়িয়ে রয়েছেন।
গতকাল রোববার ইসলামাবাদে হাজার হাজার মানুষ রেড জোনের কাছে জড়ো হন। এই এলাকায় পার্লামেন্ট, সরকারি দপ্তর এবং বিদেশি দূতাবাসগুলো অবস্থিত। বিক্ষোভকারীরা ‘যারা আমেরিকার পক্ষ নেয় তারা গাদ্দার’ এবং ‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ’ নেওয়ার ডাক দিয়ে স্লোগান দিচ্ছিল।
রাজধানীর একটি বড় হোটেলের কাছে নারী ও শিশুসহ ৫ থেকে ৮ হাজত মানুষ খামেনির ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে সমবেত হন। ২৮ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী সৈয়দ নায়াব জেহরা আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে দেখাতে চাই, শিয়াদের হালকাভাবে নেবেন না। আমরা এখানে বিশ্বকে মনে করিয়ে দিতে এসেছি যে আমরা প্রতিশোধ নেব।’
পাকিস্তান সরকার খামেনি নিহত হওয়ার এই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানায়, তবে পরবর্তীতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলারও সমালোচনা করেছে।
শিয়া রাজনৈতিক দল মজলিস ওয়াহদাত-ই-মুসলিমীনের কর্মী আলী নবাব বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একমত হয়েছিলেন, কিন্তু কিছু লোক উস্কানিমূলক আচরণ করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছে। বিক্ষোভকারীরা যখন রেড জোনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে, তখন পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেখানে তাজা গুলি চালানোর শব্দও শোনা গেছে।
ইসলামাবাদের সরকারি পলি ক্লিনিকের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা অন্তত দুটি মরদেহ পেয়েছেন এবং ৩৫ জন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিয়েছেন।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচিতে। সেখানে মাই কোলাচি রোডে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে শত শত মানুষ জড়ো হন। একদল যুবক কনস্যুলেটের বাইরের গেট টপকে ভেতরে ঢুকে মূল ভবনের জানালা ভাঙচুর করে। পরে টিয়ার গ্যাস ও গুলিবর্ষণের মাধ্যমে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।
পুলিশ সার্জন সুমাইয়া সৈয়দ এক বিবৃতিতে জানান, করাচিতে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন। সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
উত্তরাঞ্চলে সহিংসতা
শিয়া প্রধান পাহাড়ি অঞ্চল গিলগিট-বালতিস্তানেও চরম অস্থিরতা দেখা দেয়। স্কার্দু শহরে বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘ সামরিক পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠির কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিলে অন্তত ৮ জন নিহত হন। একটি স্কুলসহ আরও কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্কার্দুতে তিন দিনের কারফিউ জারি করেছে।
লাহোরেও শত শত মানুষ মার্কিন দূতাবাসের বাইরে জড়ো হয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস দিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। এছাড়া পেশোয়ার, মুলতান ও ফয়সালাবাদেও বড় ধরনের বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে তাদের নাগরিকদের বড় সমাবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের নভেম্বরেও মক্কায় গ্র্যান্ড মসজিদ দখলের পেছনে আমেরিকা ও ইসরায়েল রয়েছে—এমন গুজবে উত্তেজিত জনতা ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল, যাতে ৪ জন নিহত হন।

পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর ডেভ ম্যাককরমিক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করতে পারলেও ইরানকে ‘ঠিক’ করতে পারবে না। গতকাল রোববার ট্রাম্পের দলের এই সিনেটর দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজের একটি...
৯ মিনিট আগে
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গত শনিবার ইরানে যৌথভাবে আক্রমণ চালায়। সেই আক্রমণে ইরানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে অন্তত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া, বিনা উসকানিতে ইরানে আক্রমণ চালানো হয়েছে।
৩৪ মিনিট আগে
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। সব পক্ষই বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা শুরু করেছে। ইরানে বিপুল প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে গতকাল রোববার প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে কমপক্ষে ৯ জন বেসামরিক ব্যক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৩ জন সেনা নিহতের খবর এসেছে।
৩৮ মিনিট আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর দেশ যে আগ্রাসন চালাচ্ছে, তাতে আরও মার্কিন সেনার মৃত্যু হওয়ার ‘আশঙ্কা’ আছে। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন অভিযান সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম....
১ ঘণ্টা আগে