১৭০ যাত্রীকে বাঁচানোর নায়ক ভারতীয় পাইলট বললেন—নিজের জীবন বাঁচাতে লড়েছি

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার বলেছেন, হামলার সময় তিনি নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য লড়াই করেছেন। পাশাপাশি যাত্রীদের জীবন রক্ষার দায়িত্বটুকুও তিনি অনুধাবন করেছিলেন।
আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাচ্ছার আজ শুক্রবার ভিডিও কলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, হামলার সময় গুরুতর আহত হয়ে একপর্যায়ে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। তখন তিনি অনুভব করেন, উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচের দিকে নামছে। তিনি তখন বুঝতে পারেন, উঠে দাঁড়াতে না পারলে শতাধিক যাত্রীর জীবন বিপন্ন হবে।
মাচ্ছার বলেন, ‘আমি নিজের জীবনের জন্য লড়াই করছিলাম। একপর্যায়ে বুঝতে পারলাম, আমি যদি উঠে দাঁড়াতে না পারি, তাহলে যাত্রীরা প্রাণ হারাবেন।’
ঘটনাটি ঘটে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে। অভিযোগ রয়েছে, উড়োজাহাজের ওমানি সহকারী পাইলট মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং উড়োজাহাজটিকে খাড়া কোণে নিচে নামিয়ে দেন। মাত্র এক মিনিটে বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থাতেও মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। পরে কয়েকজন যাত্রী ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর একজন বিকল্প ক্রু নিরাপদে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুকে অবতরণ করান। হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
দুই সন্তানের বাবা মাচ্ছার বলেন, তাঁর ১৭ বছরের বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে সহায়তা করেছে। কঠিন মুহূর্তে তিনি শক্তি ও সাহসের জন্য হিন্দু ধর্মীয় প্রার্থনা ‘হনুমান চালিশা’ পাঠ করছিলেন বলেও জানান। তাঁর ভাষায়, ‘ভগবান হনুমান আমাকে সাহস দিয়েছেন।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, তাঁর পদক্ষেপ একটি ‘বড় ধরনের বিপর্যয়’ ঠেকাতে সহায়তা করেছে এবং বহু মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে।
হামলার উদ্দেশ্য ও হামলাকারীর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চলছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে হামলাকারীর ‘ইসলামি উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত’ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
শরীরে ব্যান্ডেজ থাকা অবস্থায় মাচ্ছার বলেন, তিনি ঘটনাটিকে ক্ষত হিসেবে দেখছেন না, বরং একটি দীর্ঘ যাত্রা হিসেবে দেখছেন। তিনি আত্মবিশ্বাসী, সময়ের সঙ্গে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।









