Ajker Patrika

কূটনৈতিক সমাধানে এখনো প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র, তবে ইরানের আচরণ বদলাতে হবে: রুবিও

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ১৩: ৩৭
কূটনৈতিক সমাধানে এখনো প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র, তবে ইরানের আচরণ বদলাতে হবে: রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে তিনি বলেছেন, কোনো সমঝোতা বাস্তবসম্মত হতে হবে এবং ইরানকে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে পালন করতে হবে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল রোববার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুবিও বলেন, এক সপ্তাহ আগে ইরানের একটি বিবৃতি দেওয়ার কথা ছিল, যেখানে তারা ঘোষণা করত যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর আর হামলা চালানো হবে না। কিন্তু সেই ঘোষণা দেওয়ার পরিবর্তে ইরান তিনটি জাহাজে হামলা চালায়। তাঁর ভাষায়, ঘটনাটি গত শুক্রবার বা শনিবার ঘটেছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পরিবর্তনের আগে ইরানকে নিজেদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রুবিও আরও দাবি করেন, বর্তমানে ইরানের অভ্যন্তরে ‘ক্রমবর্ধমান বিভাজন’ দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, একদিকে রয়েছে আরও উগ্রপন্থী কট্টরপন্থীরা, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের ওপর হামলা চালিয়ে যেতে চায়। অন্যদিকে রয়েছে এমন একটি পক্ষ, যারা ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ইরানের জন্য গঠনমূলক কিছু করতে চাওয়া ব্যক্তিরা যদি দেশটির রাষ্ট্রব্যবস্থা বা অন্তত আলোচনার প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন, তাহলে সেটি অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।

ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে রুবিও অভিযোগ করেন, দেশটি তাদের বিপুল আর্থিক সম্পদ প্রক্সি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর পেছনে ব্যয় করেছে। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মাধ্যমে হোক বা তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে হোক, ইরানি সরকার যে অর্থই পেয়েছে তার প্রতিটি পয়সা হিজবুল্লাহর পেছনে বিনিয়োগ করেছে।

তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া তারা হামাসে বিনিয়োগ করেছে এবং ইরাকের বিভিন্ন মিলিশিয়া, হিজবুল্লাহ ও হামাসকে সমর্থন দিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। তাঁর মতে, এই অর্থ ইরানের জনগণের কল্যাণে এবং দেশ গঠনে ব্যয় করা উচিত ছিল।

রুবিও বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলতে থাকা এবং দেশটি হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ রাখার সময় পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহন নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রই বহন করবে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিশ্বের পক্ষ থেকে জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সেবা দিয়ে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে একমাত্র তারাই।

এ কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, অন্যান্য দেশও এগিয়ে এসে অন্তত এই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সেবা পরিচালনার ব্যয় বহনে আর্থিক সহায়তা দিক বলে জানান রুবিও। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সামনে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় হলো, তারা কি এমন একটি আন্তর্জাতিক নৌপথকে ইরানের মতো একটি দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকতে দেবে, যা তাঁর ভাষায় ‘সম্পূর্ণ অবৈধ, আইনবহির্ভূত এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত