
ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি রিয়াদে নির্ধারিত শান্তি আলোচনায় যোগ না দিয়ে সোমালিল্যান্ড হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে গেছেন। এদিকে, রিয়াদে যাওয়া এসটিসির আলোচক দল উধাও হয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে এক বিবৃতিতে জোট জানিয়েছে, আল-জুবাইদি বুধবার ‘গভীর রাতে’ ইয়েমেনের এডেন থেকে একটি জাহাজে করে সোমালিল্যান্ডের বারবেরা বন্দরের উদ্দেশে পালিয়ে যান।
সেখান থেকে আল-জুবাইদি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বিমানে চড়ে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে যান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ওমান উপসাগরের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় বিমানটি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর আবুধাবির আল রিফ সামরিক বিমানবন্দরে অবতরণের ১০ মিনিট আগে তা আবার সচল করা হয়।’
এসটিসি বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিশ্চিত হলে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বিরোধ আরও গভীর হতে পারে। গত ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত এসটিসি যখন রিয়াদ সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালায়, তখন থেকেই এই ফাটল প্রকাশ্য রূপ নেয়।
এসটিসি মূলত উত্তর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে সমর্থন দিচ্ছিল। তবে এখন তারা দক্ষিণ ইয়েমেনে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র চাইছে। তারা সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী হাজরামাউত ও মাহরা প্রদেশ দখল করে নিয়েছিল, যা রিয়াদ তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি সমর্থিত বাহিনী সেগুলো আবার পুনরুদ্ধার করতে শুরু করেছে।
এদিকে, এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বুধবার জানিয়েছেন, সৌদি আরবে আলোচনার জন্য যাওয়া কয়েক ডজন কর্মকর্তার সঙ্গে দক্ষিণ ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এসটিসির বৈদেশিক বিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমর আল-বিদ মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ৫০ জনের বেশি সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলটি স্থানীয় সময় রাত ৩টায় সৌদি রাজধানীতে পৌঁছানোর পর থেকে তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিদ জানান, ওই বিমানে থাকা একজন ব্যক্তি—যিনি প্রতিনিধি দলের অংশ ছিলেন না—তাঁকে জানিয়েছেন যে রিয়াদের কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধিদের একটি বাসে করে নিয়ে যায় এবং এরপর থেকে তাদের আর দেখা যায়নি। বুধবার সকালে এসটিসি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা জানানোর পর, দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ আল-গাইথির এক্সের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি ‘ইতিবাচক পরিবেশে’ সৌদি রাজধানীতে পৌঁছেছেন এবং ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করবেন।
তবে বিদ দাবি করেছেন, প্রতিনিধি দলের পরিবারের সদস্যরা তাদের আত্মীয়দের কাছ থেকে কিছুই শুনতে পাননি। তারা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এসটিসি কর্মকর্তাদের ধারণা, তাদের সহকর্মীদের ফোন জব্দ করা হয়েছে। বিদ বলেন, প্রতিনিধিদের কাউকে কাউকে কল করা যাচ্ছে, কিন্তু ফোন বেজেই যাচ্ছে, কেউ ধরছে না।
বুধবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে গ্রুপটি জানায়, ‘৫০ জনেরও বেশি এসটিসি কর্মকর্তাকে সৌদিরা খেয়ালখুশিমতো আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। আমরা তাদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছি এবং তাদের নিরাপত্তার সব দায়ভার সৌদি আরবের ওপর ন্যস্ত করছি।’
সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত এসটিসি প্রধান আইদারুস আল-জুবাইদিরও এই প্রতিনিধি দলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি সরে দাঁড়ান। অনলাইনে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে, তিনি তার জন্মস্থান আল-ধালে’র পাহাড়ে পালিয়ে গেছেন। তবে বিদ সেই গুঞ্জন অস্বীকার করে জানান যে, তাদের নেতা এডেনেই আছেন।
এর আগে বুধবার, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার—প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি)—জুবাইদির সদস্যপদ বাতিল করে এবং তার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগ আনে। এসটিসি মূলত এই কাউন্সিলেরই অংশ ছিল।
পিএলসি-র চেয়ারম্যান রশাদ আল-আলিমি জানান, জুবাইদির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তাঁকে প্রসিকিউটর জেনারেলের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। জুবাইদির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানের ক্ষতি করা, সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠন, বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন, কর্মকর্তা ও সৈন্যদের হত্যা এবং সামরিক স্থাপনায় নাশকতা চালানো। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অনুসারী পিএলসি-র আরও বেশ কিছু প্রতিনিধির সদস্যপদও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনাতেই যাবে না। এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি। তিনি জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
১০ মিনিট আগে
জীবিত আছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। এমনটাই দাবি করেছেন তাঁর এক ঘনিষ্ঠ উপদেষ্ট। গতকাল রোববার ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
৩১ মিনিট আগে
কুয়েতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়ে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বিমানটিকে এফ–১৬ বলেও ধারণা করছেন।
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এমনকি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকেও অ্যান্টিশিপ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল।
২ ঘণ্টা আগে