
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির সেনাদের লেবাননের আরও ভেতরে ঢুকে পড়ে দখল সুদৃঢ় করার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার তিনি এ নির্দেশ দেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েলের মধ্যে ছয় সপ্তাহ ধরে যুদ্ধবিরতি চলছে। মূলত, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও কঠোর হামলা চালানোর লক্ষ্যেই এই নির্দেশ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, লেবানন সংঘাত ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিস্তার হিসেবে দেখা দিয়েছে। গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ মিত্র ইরানকে সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েলি হামলার কারণে কারণে ১২ লাখের বেশি লেবাননিজ বাস্তুচ্যুত হন।
লেবানন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এই অভিযানে ৩ হাজার ৩৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, একই সময়ে তাদের ২৪ জন সেনা ও চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলার কারণে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের কয়েক হাজার বাসিন্দাও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রায় ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ৯০০ বছরের পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ এবং একটি কৌশলগত পাহাড়ি উপত্যকা দখল করেছে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর উত্তর ইসরায়েলের দিকে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে ভারী হামলাগুলোর একটি হওয়ার এক দিন পর এই অভিযান চালানো হয়। ওই হামলার কারণে স্কুল বন্ধ এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি (সামরিক বাহিনীকে) লেবাননে তাদের স্থল অভিযান সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছি।’
এপ্রিলের মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহ পরস্পরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হিজবুল্লাহ এখন তুলনামূলক সস্তা, সহজে সংযোজনযোগ্য আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করছে, যেগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে ঠেকানো কঠিন। এসব ড্রোন দক্ষিণ লেবাননে কয়েকজন ইসরায়েলি সেনাকেও হত্যা করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে লেবাননের লিতানি নদী পর্যন্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে এখন তারা আরও উত্তরে, প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের জাহারানি নদীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। নেতানিয়াহু বলেন, তাঁর লক্ষ্য হলো ‘যেসব স্থান আগে হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেখানে আমাদের দখল আরও গভীর ও বিস্তৃত করা।’
আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত বলেন, তিনি লেবাননে আরও কঠোর পদক্ষেপ চান। বিশেষ করে রাজধানী বৈরুতের উপশহরগুলোতেও হামলা চান তিনি।
বিউফোর্ট দুর্গে অগ্রসর হওয়ার ফলে ইসরায়েলি সেনারা এখন দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং উত্তর ইসরায়েলের ওপর নজরদারির সুবিধা পেয়েছে। এই এলাকা থেকেই অতীতে ইসরায়েলের আবাসিক অঞ্চলের দিকে হামলা চালানো হয়েছিল।
এর আগে, ২০০০ সালের মে মাসে দক্ষিণ লেবাননে ১৮ বছরের সামরিক উপস্থিতি শেষ করে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করার পর এই প্রথম তারা আবার ওই স্থানটির নিয়ন্ত্রণ নিল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বলয়ের অংশ হিসেবে সেনারা বিউফোর্ট দুর্গ ধরে রাখবে। তিনি বলেন, ‘অভিযান এখনো শেষ হয়নি। আমরা সবাই হিজবুল্লাহর শক্তিকে চূর্ণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
কাৎজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্গের ওপর ইসরায়েলের পতাকা এবং সেনাবাহিনীর গোলানি ব্রিগেডের পতাকা ওড়ানোর একটি ছবি প্রকাশ করেন। ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানটি মূলত বিউফোর্ট রিজ এবং ওয়াদি আল-সালুকি এলাকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দিকে কেন্দ্রীভূত ছিল। একই সঙ্গে ওই রিজ এলাকায় ইরানের নির্দেশনায় গড়ে তোলা হিজবুল্লাহর যোদ্ধা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যও ছিল।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার ভিত্তি হিসেবে সামরিক প্রতিরোধক্ষমতাকেই শক্তি হিসেবে দেখে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা ও কথার’ ওপর নির্ভর করার ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে।
১ ঘণ্টা আগে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার করছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, টানেলের মুখ পরিষ্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের মাধ্যমে দেশটি আবারও তার দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ফিরিয়ে আনছে।
৯ ঘণ্টা আগে
মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খনির কাজের জন্য মজুত করে রাখা বিস্ফোরকের একটি গুদামে বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত ৪৫ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটা এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও অর্ধশতাধিক মানুষ।
১১ ঘণ্টা আগে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আরব উপসাগরে আটকা পড়ে ১০৯টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তায় এই অবরুদ্ধ দশা থেকে ২৯টি বড় তেলের ট্যাংকার নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে