Ajker Patrika

আলোচনার মাধ্যমে নয়, আমরা ছাড় আদায় করি ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে: গালিবাফ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০১ জুন ২০২৬, ০৮: ৫৪
আলোচনার মাধ্যমে নয়, আমরা ছাড় আদায় করি ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে: গালিবাফ
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ফাইল ছবি

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার ভিত্তি হিসেবে সামরিক প্রতিরোধক্ষমতাকেই শক্তি হিসেবে দেখে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা ও কথার’ ওপর নির্ভর করার ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে।

গত শুক্রবার বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘আমরা সংলাপের মাধ্যমে ছাড় আদায় করি না, ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে করি। আলোচনার সময় আমরা বিষয়টি কেবল তাদের বুঝিয়ে দিই।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) গ্যারান্টি ও কথায় আমাদের কোনো আস্থা নেই। আচরণই একমাত্র মানদণ্ড। অপর পক্ষের সমপর্যায়ের পদক্ষেপের আগে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।’

তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘যেকোনো চুক্তির প্রকৃত বিজয়ী সেই পক্ষ, যে পরদিন যুদ্ধের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকে।’ তাঁর এই বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে—ইসরায়েল গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে গালিবাফকে হত্যার জন্য চাপ দিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার পক্ষেও তদবির করছে। অচলাবস্থায় থাকা আলোচনাগুলোতে গালিবাফই এত দিন ইরানের প্রধান আলোচকের ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

গোপন মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর মতে, ‘ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জোরেশোরে আলোচনা থেকে সরিয়ে আবার যুদ্ধের পথে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’ তাদের যুক্তি, তেলের স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালানো হলে ‘তেহরানে শাসন পরিবর্তন’ ঘটতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের কারণে ইসরায়েল এখনো ‘ওয়াশিংটনের প্রতি সংযত’ অবস্থান বজায় রেখেছে। তাই তাদের বিকল্প পরিকল্পনা মূলত নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোকে দমন করার ওপর কেন্দ্রীভূত।

এদিকে, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন—ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি প্রায় সম্পন্ন হয়ে এসেছে। একই সময়ে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানোর জন্য একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছানো হয়েছে। এই স্মারকটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায়।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, এ ধরনের কোনো চুক্তি এখনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বারবার তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে ইরান দেখেছে যে ওয়াশিংটন অঙ্গীকার বা চুক্তিকে কোনো গুরুত্ব দেয় না।’

আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অন্তহীন এক অন্ধকার সুড়ঙ্গে প্রবেশ করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে অথবা সরাসরি পদক্ষেপ নিয়ে’ ইরান সমুদ্রপথে আরোপিত অবরোধ অপসারণ করতে বাধ্য করবে।

তথ্যসূত্র: দ্য ক্রেডল

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত