Ajker Patrika

ইউক্রেন ও ইরান: যুদ্ধে যেভাবে মিলেছে দুই দেশ

  • আপাতদৃষ্টিতে ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধ সম্পর্কহীন
  • সামরিক ক্ষেত্রে সহায়তার বিনিময় দেখা যাচ্ছে
  • জ্বালানি ইস্যুতে সংযোগ ফুটে উঠেছে
আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইউক্রেন ও ইরান: যুদ্ধে যেভাবে মিলেছে দুই দেশ

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ পঞ্চম বছরে পড়েছে। অন্যদিকে পাঁচ সপ্তাহ ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। আপাতদৃষ্টিতে ভৌগোলিক অবস্থান থেকে শুরু করে কোনোভাবেই দুটি যুদ্ধের একে অপরের সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, দুটি যুদ্ধের গতিপথ ক্রমেই জড়িয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়, একটি যুদ্ধ অন্যটির গতিপথকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট, দুই যুদ্ধের মধ্যে একটি সংযোগ দিন দিন প্রকট হচ্ছে, যা বেশিসংখ্যক দেশকে দুটি ভিন্ন সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলছে। ফলে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতার একটি বিস্তৃত ধারা সৃষ্টি হচ্ছে।

অবশ্য ইউক্রেনের দিক থেকে বিবেচনা করলে, তাদের যুদ্ধে বহু দেশের সংশ্লিষ্টতা নতুন কিছু নয়। রুশ আগ্রাসন শুরুর পর একদিকে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের সমর্থনে এগিয়ে আসে, অন্যদিকে রাশিয়ার পাশে দাঁড়ায় উত্তর কোরিয়া ও ইরান। বিশেষত, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইরানে তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। নতুন বিষয় হলো, এবার তেহরানের প্রতি সেই সহযোগিতার প্রতিদান দিচ্ছে মস্কো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য, লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা এবং ড্রোন সরবরাহে রাশিয়ার সহায়তার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এতে ইউক্রেনও জড়িয়ে গেছে। রুশ হামলা ঠেকাতে বহুদিন ধরে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চাইছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইরানের যুদ্ধে তিনি নিজের পক্ষে দেওয়ার মতো একটি পাশার দান পেয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানের সস্তা শাহেদ ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের বহুমূল্য আকাশ প্রতিরক্ষা গোলা খরচ করে ফেলছে। জেলেনস্কি প্রস্তাব দিয়েছেন, শাহেদ ড্রোন ঠেকাতে আরও কার্যকর ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং বিশেষজ্ঞ দেবে ইউক্রেন। বিনিময়ে তাঁদের প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে হবে। তাঁর কৌশল কতটা কাজে দেবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এভাবে কৌশলগত কারণে ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।

অবশ্য কেবল কৌশল নয়, সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি যুদ্ধকে এক প্রেক্ষাপটে নিয়ে এসেছে জ্বালানি সংকট। ইরানে হামলা শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এরপর হু হু করে বাড়তে থাকে জ্বালানির দাম। অনেকটা বাধ্য হয়ে রাশিয়ার জ্বালানি পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে সাময়িকভাবে হাঁপ ছাড়ে রাশিয়া। কারণ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে রাশিয়ার অন্যতম অর্থের উৎস তাদের জ্বালানি রপ্তানি। নিষেধাজ্ঞার কারণে যুদ্ধের অর্থায়ন নিয়ে বেশ বিপাকে পড়ে রাশিয়া। তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বনাশ হলেও, তা যেন রাশিয়ার জন্য পৌষমাস হয়ে আসে।

এদিকে, রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলতা ইউক্রেনের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দেখা দেয়। রাশিয়ার বাড়তি আয় কমানোর জন্য ইউক্রেন সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বাড়িয়েছে। রয়টার্সের গত সপ্তাহের এক হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলার ফলে রাশিয়ার প্রায় ৪০ শতাংশ তেল রপ্তানি সক্ষমতা বন্ধ হয়ে গেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস বলেন, ‘এই যুদ্ধগুলো খুব ঘনিষ্ঠভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। তাই যদি যুক্তরাষ্ট্র চায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামুক এবং ইরান তাদের ওপর আক্রমণ বন্ধ করুক, তাহলে রাশিয়ার ওপরও চাপ দিতে হবে, যাতে তারা ইরানকে সহায়তা করতে না পারে।’

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই দুই যুদ্ধের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্বীকার করতে অনীহা দেখাচ্ছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানে রাশিয়ার ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত বা প্রভাবিত করছে না। পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক উইলিয়াম স্প্যানিয়েল মনে করেন, আঞ্চলিক সংঘাতগুলো ভবিষ্যতে বিশ্বরাজনীতির বিভাজনরেখায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ আটকে দেওয়ার সুপারিশ বিশেষ কমিটির

কুমিল্লায় ২ সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিলেন এসি ল্যান্ড

রাত ৮টার পর দেশের সব দোকান-শপিং মল বন্ধ থাকবে, সিদ্ধান্ত মালিক সমিতির

অফিস সকাল ৯টা থেকে ৪টা, সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ মার্কেট

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত