
ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন ও স্ববিরোধী মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়ায় এক রাষ্ট্রীয় সফরকালে তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের এই অসংলগ্ন আচরণ বিশ্বজুড়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে মাখোঁ বলেন, ‘আপনাকে সিরিয়াস হতে হবে। যখন আপনি কোনো বিষয়ে গুরুত্ব দিতে চান, তখন আগের দিন যা বলেছেন, পরের দিন তার উল্টোটা বলতে পারেন না। আর সম্ভবত আপনার প্রতিদিন কথা বলাও উচিত নয়।’
মাখোঁ অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ন্যাটোর প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ‘প্রতিদিন সন্দেহ’ তৈরি করে এই জোটকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘যদি আপনি নিজের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রতিনিয়ত সন্দেহ তৈরি করেন, তবে আপনি এর মূল ভিত্তিকেই অন্তঃসারশূন্য করে ফেলবেন। বর্তমানে সব দিকেই প্রচুর আজেবাজে কথা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধে মিত্ররা সমর্থন না দেওয়ায় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে বের করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি এই প্রতিরক্ষা জোটকে একটি ‘কাগজের বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোতে ‘ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার’ খরচ করলেও বিনিময়ে কিছুই পায়নি।
সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার মার্কিন পরিকল্পনাকে ‘অবাস্তব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মাখোঁ। তিনি সতর্ক করে বলেন, শক্তি প্রয়োগ করে প্রণালিটি সচল করা অসম্ভব। কারণ, এটি করতে দীর্ঘ সময় লাগবে এবং সেখানে থাকা ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কারণে অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চল হুমকির মুখে পড়বে।
মাখোঁর মতে, হরমুজ প্রণালি সচল করার একমাত্র পথ হলো ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর জন্য সবার আগে একটি যুদ্ধবিরতি ও পুনরায় আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নৌবাহিনী পুরো ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে ইরান এখনো বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। গত সপ্তাহে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও তাদের মিত্র ছাড়া সবাই এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।

ইরানের পুরস্কারপ্রাপ্ত মানবাধিকার আইনজীবী নাসরিন সোতুদেহকে তেহরানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। তবে গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁর অবস্থান এখনো অজানা। এই ঘটনায় দেশটির নাগরিক সমাজের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
১ ঘণ্টা আগে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের দাবানল পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সংঘাতে কেবল ইরান নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
২ ঘণ্টা আগে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জানানো হয়, এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৭৬ জন নিহত এবং ২৬ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ওটা মাটির অনেক গভীরে, আমি ওসবের পরোয়া করি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব সময় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সেদিকে নজর রাখব।’ অথচ এক দিন আগেও তিনি যুদ্ধের মূল লক্ষ্য হিসেবে ‘ইরানি শাসনের পতন’ ও ‘পারমাণবিক সক্ষমতা নির্মূল’ করার কথা জোর দিয়ে বলেছিলেন।
২ ঘণ্টা আগে