Ajker Patrika

হামাস অস্ত্র না ছাড়লে গাজা থেকে সরবে না ইসরায়েলি বাহিনী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হামাস অস্ত্র না ছাড়লে গাজা থেকে সরবে না ইসরায়েলি বাহিনী
গাজার শাতি শরণার্থীশিবিরে ধ্বংসস্তূপের মাঝে হেঁটে যাচ্ছে শিশুরা। ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিস জানিয়েছে, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার করা হবে না। গতকাল সোমবার পশ্চিম জেরুজালেমে বোর্ডের পরিচালক নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর এ কথা জানানো হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার যে চুক্তির ঘোষণা দেন, তা নিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকা অবস্থায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প জানুয়ারিতে বোর্ড অব পিস গঠন করেন। ইসরায়েলের গাজায় চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধের পর গাজার প্রশাসন পরিচালনার তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই সংস্থাকে।

বৈঠকের পর বোর্ড অব পিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছে, “ভুলভাবে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিপরীতে আমরা স্পষ্ট করছি যে, হামাস মধ্যস্থতাকারীদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেই অনুযায়ী অস্ত্র পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা শেষ হওয়ার পরই (ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী) ইয়েলো লাইনের বাইরে নিজেদের অবস্থানে ফিরে যাবে। এর মধ্যে হালকা অস্ত্র, ভারী অস্ত্র এবং সুড়ঙ্গও অন্তর্ভুক্ত।”

‘ইয়েলো লাইন’ বলতে গাজার সেই সীমারেখাকে বোঝানো হয়, যার পেছনে ইসরায়েলি সেনারা এখনো গাজায় অবস্থান করছে। বোর্ড অব পিস আরও বলেছে, ‘লক্ষ্য পরিষ্কার এবং এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই: গাজা উপত্যকায় সব অস্ত্র পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা এবং বন্দুকের শাসন থেকে সরে গিয়ে বেসামরিক প্রশাসনের অধীনে যাওয়া।’

অন্যদিকে, হামাস জোর দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল চুক্তির নিজস্ব অংশ বাস্তবায়ন না করলে এই চুক্তি কার্যকর হবে না।

বৈঠকের সময় ম্লাদেনভ নেতানিয়াহুকে গাজায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। বৈঠক সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) এ তথ্য জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণা করা হলেও ইসরায়েল হামলা বন্ধ করেনি। এরপর থেকে ইসরায়েল গাজায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি ঘোষণার পরই নিহত হয়েছেন ৩৬ জনের বেশি ফিলিস্তিনি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৈঠকের আগে নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছিল, প্রকাশ্যে আসা চুক্তির সংস্করণটি ‘ইসরায়েলের অবস্থানের প্রতিফলন ঘটায় না।’ ইসরায়েলের উদ্বেগের বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছিল।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি সরকারের কয়েকজন সদস্য এরই মধ্যে চুক্তি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ বলেছেন, চুক্তিটি ইসরায়েলি সরকার যে চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছিল তার সঙ্গে ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন।’ তিনি অবিলম্বে এ বিষয়ে নতুন করে ভোট নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ইসরায়েল এর আগেও বারবার বিভিন্ন চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং আলোচনার সময় কোনো ধরনের ছাড় দিতে অনিচ্ছুক থাকার অভিযোগও রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে। সর্বশেষ এই অবস্থান পরিবর্তন এসেছে ট্রাম্প চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য জোর চেষ্টা চালানোর মধ্যেই। তবে ইসরায়েলে নির্বাচন হতে এখনো কয়েক মাস বাকি এবং সেই নির্বাচনের আগে সরকার তার সমর্থকদের কাছ থেকে গাজায় ‘পূর্ণ বিজয়’ অর্জনের প্রমাণ দেখানোর চাপের মুখে রয়েছে।

ম্লাদেনভ সপ্তাহান্তে গাজায় হামলারও সমালোচনা করেন। তবে তিনি সরাসরি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি লিখেছেন, ‘স্থায়ী শান্তি অর্জন কঠিন, তবে সবাই নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করলে তা অর্জন করা সম্ভব।’

গাজায় নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির মধ্যস্থতাকারী মিসর, কাতার ও তুরস্ক এক যৌথ বিবৃতিতে বেসামরিক মানুষ ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু করার নিন্দা জানিয়েছে। তারা এই হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছে। হামাস জানিয়েছে, তারা এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন করার ব্যাপারে এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এ বিষয়ে ম্লাদেনভ ও মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত