Ajker Patrika

আপত্তিকর মন্তব্য: তামিলনাড়ুতে বিরোধীদলীয় নেতা গ্রেপ্তার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৩৯
আপত্তিকর মন্তব্য: তামিলনাড়ুতে বিরোধীদলীয় নেতা গ্রেপ্তার
বিজয়ের সহ–অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় এমকে স্ট্যালিনের ছেলে উদয়ানিধি স্ট্যালিনকে গ্রেপ্তার করেছে তামিলনাড়ু পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের বান্ধবী ও সহ–অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে বিরোধীদলীয় নেতা উদয়ানিধি স্ট্যালিনকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশ। গতকাল সোমবার এক জনসভায় এই অভিনেত্রীকে নিয়ে উদয়ানিধি স্ট্যালিনের মন্তব্য তুমুল বিতর্কের জন্ম দেয়। বিরোধীদল দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগামের (ডিএমকে) নেতার এই আপত্তিকর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজয়ের দল টিভিকে।

পুলিশ যখন উদয়ানিধি স্ট্যালিনকে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি হাসছিলেন। তিনি এই গ্রেপ্তারকে একটা ‘মজা’ হিসেবে দেখছেন বলে জানান এবং আইনিভাবেই এর মোকাবিলা করবেন বলে ঘোষণা দেন।

ডিএমকে এই গ্রেপ্তারের কড়া সমালোচনা করে একে রাজনৈতিক প্রতিশোধপরায়ণতা বলে অভিহিত করেছে। ডিএমকে নেতা টিকে এস এলানগোভান বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে কিছু বলা হয়নি। উদয়নিধি শুধু বিজয়ের ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরেছেন। সেই বক্তব্যে অপমানজনক কিছু ছিল না। তিনি তো এমনকি তৃষার নাম পর্যন্ত নেননি।’

এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক প্রতিশোধের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম বা টিভিকে নেতা আমেরিকা নারায়ণন। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বা টিভিরকের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য উদয়নিধি স্ট্যালিনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজন নারীকে অপমান করার জন্য।’

উদয়ানিধিকে খোঁচা মেরে এই টিভিকে নেতা আরও বলেন, তাঁর নিজের নাম বদলে রাখা উচিত ‘ভালগার-নিধি’ (অশ্লীল-নিধি)।

এর আগে, গতকাল সোমবার তাঞ্জাভুরে কাবেরী নদীর পানিবণ্টন বিরোধ নিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়কে নিশানা করেন উদয়ানিধি। তিনি অভিযোগ তোলেন, মুখ্যমন্ত্রী উদাসীন হয়ে বসে আছেন, অথচ তামিলনাড়ু কাবেরী নদীর এক ফোঁটা পানিও পায়নি।

সমাবেশের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ভিড়ের মধ্য থেকে কেউ একজন ‘ত্রিশা, ত্রিশা’ বলে চিৎকার করে ওঠে। উদয়ানিধি থমকে দাঁড়ান, তাঁর মুখে ফুটে ওঠে বাঁকা হাসি, আর তার পরেই তিনি এক আপত্তিকর দ্বি-অর্থবোধক মন্তব্য করে বসেন—যে মন্তব্য ঘিরে এখন দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। উদয়ানিধি বলেন, ‘পানি অন্য কোথাও পৌঁছাক বা না পৌঁছাক, সেখানে পৌঁছানো উচিত।’

এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় নারী কমিশনে চিঠি দিয়ে ডিএমকে নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় টিভিকে। একই সঙ্গে উদয়ানিধির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করে দলটি।

নারী কমিশনে দেওয়া অভিযোগে টিভিকে উল্লেখ করেছে, ‘দর্শকদের স্লোগানে প্ররোচিত হয়ে উদয়ানিধি স্ট্যালিন একজন বিশিষ্ট নারী জননেত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর, দ্ব্যার্থক ও অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।’ অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘উচ্চপর্যায়ের কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে এমন ভাষার ব্যবহার প্রকাশ্য স্থানে নারীদের বস্তুরূপে দেখা এবং মৌখিক হেনস্তাকে স্বাভাবিক বলে প্রশ্রয় দেয়।’

এর আগেই এই মন্তব্যের জের ধরে উদয়ানিধির গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছিল তামিলনাড়ু বিজেপি। গত সোমবার বিজেপির প্রধান মুখপাত্র নারায়ণন তিরুপতি বলেন, ‘তাঞ্জাভুরে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ও ত্রিশাকে নিয়ে উদয়ানিধি স্ট্যালিনের এই দ্ব্যার্থক বক্তব্য অত্যন্ত ঘৃণ্য, অশ্লীল, কুরুচিকর ও লজ্জাজনক। সত্যি বলতে, কোনো লম্পট বা চোরেরও যদি মা, স্ত্রী কিংবা মেয়ে থাকে, সে-ও এতটা জঘন্যভাবে কথা বলবে না। কোনো মা, স্ত্রী বা মেয়ে এমন মানুষদের ক্ষমা করবে না। কিন্তু অত্যন্ত লজ্জার বিষয় যে, নিজেকে ‘দ্রাবিড়িয়ান মডেল’ বলে দাবি করা এই লোকগুলো যখন প্রকাশ্যে এমন কথা বলছে, তখন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন তা চুপচাপ দেখে যাচ্ছেন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এমন রুচিহীন বক্তব্যের জন্য উদয়ানিধি স্ট্যালিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠালে তামিলনাড়ুর সম্মানই বাড়বে।’

দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, ত্রিশাকে নিয়ে এমন আপত্তিকর কথা এই প্রথম নয়, এবং এর মূল টার্গেট থাকেন থালাপতি বিজয় নিজেই। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছড়ানোর পর থেকেই চলচ্চিত্র ও রাজনীতির জগতের নানা মানুষ নির্দ্বিধায় এ নিয়ে মন্তব্য করে আসছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তামিলনাড়ুর বিজেপি নেতা নাইনার নাগেনদ্রন মন্তব্য করেছিলেন, রাজনীতিতে নামার আগে বিজয়ের উচিত ‘ত্রিশার বাড়ি থেকে বের হয়ে আসা’। সে সময় তৃষার আইনি দল তাঁর পক্ষ থেকে এর জবাব দিয়েছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত