Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির হামলায় ইরাকে ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীর ‘২০ যোদ্ধা নিহত’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির হামলায় ইরাকে ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীর ‘২০ যোদ্ধা নিহত’
২০১৭ সালে ইরাকের তাল আফার এলাকায় পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের বহর। ছবি: এএফপি

ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় তাদের অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এই হতাহতের সংখ্যা প্রাথমিক এবং মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলায় নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

রাষ্ট্র-অনুমোদিত এই সংগঠনের বেশিরভাগ সদস্যই শিয়া। তারা জানিয়েছে—বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনেভেহ, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা প্রদেশে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় বিভিন্ন ভবন, যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জামেরও বিভিন্ন মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে রাতভর চালানো প্রাণঘাতী যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি আজ মন্ত্রিপরিষদের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠক শেষে ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে তারা ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করা হয়েছে।

সৌদি আরবের ভাষ্য, তাদের ভূখণ্ডে, বিশেষ করে তেল উৎপাদনকারী এলাকায়, ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফেব্রুয়ারি থেকে তেল উৎপাদনকারী এসব অঞ্চল ধারাবাহিকভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে। সৌদি আরবের দাবি, তেলের দাম বাড়ানো এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানো ইরানের কৌশলের অংশ।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ড্রোন হামলার সময়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ছিল। কারণ, যুদ্ধবিরতির পাঁচ দিনের বিরতির মধ্যে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলো এবং জর্ডান যৌথভাবে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু তাদের অভিযোগ, ‘ইরান-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী মিলিশিয়ারা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে উত্তেজনা বাড়ানোর’ পথ বেছে নিয়েছে। সৌদি আরব বলেছে, তারা আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় সময়ে যথাযথ জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করছে।

এদিকে জর্ডানে হামলার বিষয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সেখানে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইতোমধ্যে ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। পাশাপাশি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জিসিসির অন্যান্য দেশ এবং জর্ডানের পক্ষ থেকেও একই ধরনের আরও বিবৃতি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত