
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়টি ‘খুব তাড়াতাড়ি শুরু হবে।’ স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান। হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি ‘খুব ভালোভাবে’ চলছে।
তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় কবে শুরু হবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি কিছু বলেননি। তিনি শুধু বলেছেন, সবকিছু ‘ভালোভাবেই চলছে।’
হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, ‘আজ ওদের একটি বোমার কারণে সমস্যা হয়েছে, বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন, সম্ভবত কিছু লোক মারাও গিয়েছেন।’
ট্রাম্প সে সময় ইসরায়েলের গাজা উপত্যকার দক্ষিণে চালানো বিমান হামলার কথা বলছিলেন। বুধবার সন্ধ্যার ওই হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি মারা যান। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ওরা আমাকে বলছে এটা এইমাত্র ঘটেছে। কিন্তু পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে চলছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বিরাজ করছে। লোকজন তা বুঝতে পারছে না।’
রাফাহে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ইসরায়েলি সেনা জখম হওয়ার কিছু পরেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘সেই মতো জবাব দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিলেন। তার পরপরই এই হামলাগুলো হয়। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির চুক্তিটি নতুন করে ভাঙল ইসরায়েল।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্বে ইসরায়েলি জিম্মিদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। এই পরিকল্পনায় গাজা পুনর্গঠন এবং হামাসকে বাদ দিয়ে একটি নতুন শাসন ব্যবস্থা তৈরির কথাও ভাবা হয়েছে। এরই মধ্যে হামাস সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। এমনকি তাদের হাতে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের যেসব মরদেহ ছিল সেগুলোও ফেরত দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। সেই সঙ্গে জখম হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার মানুষ।
এদিকে জাতিসংঘ বলছে, ইসরায়েলি হামলায় পুরোপুরি বিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে সময় লাগবে অন্তত কয়েক দশক। আগামী কয়েক দশকে এই পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার লাগবে। পাশাপাশি সতর্ক করেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আসন্ন অর্থনৈতিক ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (আঙ্কটাড) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অবিরাম বোমাবর্ষণে গাজায় সৃষ্টি হয়েছে এক ‘মানবসৃষ্ট অতল গহ্বর।’ ২০২৩-২৪ সময়কালে এখানকার অর্থনীতি ৮৭ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ইসরায়েলের পদ্ধতিগত ধ্বংসযজ্ঞ ও অর্থনৈতিক অবরোধ গাজার মাথাপিছু জিডিপিকে ঠেলে দিয়েছে মাত্র ১৬১ ডলারে, যা বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর মধ্যে একটি।
অপর দিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের লাগাতার হামলাও ফিলিস্তিনি অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের কয়েক দশকের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এক আঘাতে মুছে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ফলে যে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা ১৯৬০ সালের পর বৈশ্বিকভাবে সবচেয়ে ভয়াবহ দশটির একটি। গাজার পরিস্থিতি আরও আলাদা; এটি নথিভুক্ত ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক বিপর্যয়।’
জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার উপবিশেষ সমন্বয়কারী রামিজ আলাকবারভ বলেন, গাজায় পরিস্থিতি এখনো ‘ভয়ংকরভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন।’ তিনি দ্রুত আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান। কারণ, মানুষ এখনো ‘অসহনীয় জীবনযাপন’ করছে।

বকেয়া নেভিগেশন চার্জ পরিশোধ না করায় ভারতীয় বাজেট এয়ারলাইন স্পাইসজেটের ওপর আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ। এর ফলে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে বিমান সংস্থাটি।
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ডে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে কৌশলগত যুদ্ধবিমান দিয়ে ইরানে আঘাত হানার পরিকল্পনা রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই পরিকল্পনায় বাঁধ সেধেছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ইরান আবার গড়ে তুলছে এবং একই সঙ্গে ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ নিচ্ছে। এমনটি দাবি করেছেন ইরানের এক প্রভাবশালী বিরোধী নেতা। যদিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত।
৪ ঘণ্টা আগে
ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ গতকাল বুধবার পাইলটদের জন্য এক অস্বাভাবিক সরকারি নোটিশ (নোটিশ ফর এয়ারম্যান বা নোটাম) জারি করে। সেখানে দেশের আকাশসীমার বড় অংশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। মূলত, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মহড়া পরিচালনার জন্য এই আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৫ ঘণ্টা আগে