Ajker Patrika

ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট কী, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কেন এগুলো গুরুত্বপূর্ণ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৩১
ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট কী, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কেন এগুলো গুরুত্বপূর্ণ
সৌদি আরবের অন্যতম একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট। ছবি: সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন তাদের একটি পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে। চলমান যুদ্ধে গত ৯ দিনে এই প্রথম কোনো আরব দেশ অভিযোগ করল যে ইরান ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট লক্ষ্য করে হামলা করেছে। এর আগে ইরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণের কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে।

ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট হলো এমন একটি শিল্প স্থাপনা, যা সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে লবণ, খনিজ পদার্থ এবং অন্যান্য উপাদান অপসারণ করে সুপেয় পানি উৎপাদন করে। এটি পানি সংকটপূর্ণ অঞ্চলে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার মতো শুষ্ক অঞ্চলে পানি সরবরাহের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।

প্রধান দুটি পদ্ধতিতে পানি ডিস্যালিনেট করা হয়। সেগুলো হলো—রিভার্স অসমোসিস (আরও)। এই পদ্ধতিতে উচ্চ চাপে পানিকে অর্ধভেদ্য ঝিল্লির মধ্য দিয়ে সবেগে প্রবেশ করানো হয়, যাতে লবণ আটকে যায় এবং ৫০-৬০ পানি সুপেয় পানিতে পরিণত হয়। এই পদ্ধতিই বিশ্বের ৭০ শতাংশ ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো থার্মাল ডিস্টিলেশন। এই প্রক্রিয়ায় পানি গরম করে বাষ্পীভবন ও ঘনীভবন করা হয়। বর্তমানে বিশ্বে ২০ হাজারে বেশি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে। এসব প্ল্যান্ট থেকে দৈনিক ১৪২ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি পাওয়া যায়।

ডিস্যালিনেশনের ইতিহাস প্রাচীনকাল থেকে শুরু। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল বাষ্পীভবনের ধারণা দিয়েছিলেন এবং রোমানরা সৌরশক্তি ব্যবহার করে পানি বিশুদ্ধ করত। ১৯ শতকের শুরুর দিকে ইংল্যান্ডে থার্মাল ডিস্যালিনেশন পরীক্ষা শুরু হয়। ১৯৫০-এর দশকে কালিফোর্নিয়ায় বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট স্থাপিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো ১৯৭০-এর দশকে বড় আকারে এই প্রক্রিয়া শুরু করে। এর মধ্যে সৌদি আরবের জুবাইল প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। ১৯৮০-এর দশকে রিভার্স অসমোসিস প্রযুক্তি সস্তা হয়ে ওঠে। ইসরাইলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট সোরেকস স্থাপিত হয় ২০১৩ সালে। তবে বর্তমানে সৌদি আরব ডিস্যালিনেশন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি সুপেয় পানি—৩০ শতাংশ উৎপাদন করে।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রাকৃতিক মিঠাপানির উৎস অত্যন্ত সীমিত। এ কারণে পানির চাহিদা পূরণে তারা ব্যাপকভাবে নির্ভর করে সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার প্রযুক্তির ওপর। এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত শক্তিনির্ভর। ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসির সদস্যরাষ্ট্রগুলোতেই বিশ্বব্যাপী পানি লবণমুক্তকরণ সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ অবস্থিত। এই অঞ্চলজুড়ে ৪০০-এর বেশি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে, যেগুলো মিলিয়ে বিশ্বে উৎপাদিত মোট লবণমুক্ত পানির প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে।

জিসিসির অধিকাংশ দেশই তাদের পানির প্রয়োজন মেটাতে মূলত এই ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলোর ওপর নির্ভরশীল। সংযুক্ত আরব আমিরাতে পানযোগ্য পানির প্রায় ৪২ শতাংশ আসে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট থেকে। কুয়েতে এই হার প্রায় ৯০ শতাংশ, ওমানে ৮৬ শতাংশ এবং সৌদি আরবে প্রায় ৭০ শতাংশ।

এ ক্ষেত্রে সৌদি আরব এককভাবে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি পরিমাণ লবণমুক্ত পানি উৎপাদন করে। নতুন প্রকল্পে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৮৫ লাখ ঘনমিটার (প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট) পানিতে পৌঁছানোর কথা ছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত