Ajker Patrika

ইসরায়েলি হামলায় তেহরানে ‘আগুনের নদী’, বিষাক্ত বৃষ্টির সতর্কতা জারি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৪৬
ইসরায়েলি হামলায় তেহরানে ‘আগুনের নদী’, বিষাক্ত বৃষ্টির সতর্কতা জারি
ইরানের একাধিক তেলের ডিপোতে হামলা করেছে ইসরায়েল। ছবি: এএফপি

ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত তেলের ডিপো থেকে নিঃসরিত জ্বালানি শহরের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় মিশে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর রাস্তার পাশে সুয়ারেজ লাইনে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, তেহরান যেন ‘আগুনের নদী’তে পরিণত হয়েছে!

এক্স প্ল্যাটফর্মে ‘লিভিং ইন তেহরান’ নামক একটি সংস্কৃতি ও শিল্পবিষয়ক অ্যাকাউন্টের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের একটি দীর্ঘ রাস্তাজুড়ে নর্দমার ভেতর দিয়ে আগুনের শিখা বয়ে যাচ্ছে। তেহরানের সুয়ারেজ সিস্টেমে তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণেই এই নজিরবিহীন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের তেল মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, তেহরানের পশ্চিমে আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ মোট তিনটি এলাকায় তাদের জ্বালানি ডিপোগুলো ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছে।

জ্বালানি ট্যাংকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাধারণ নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিকের কারণে বৃষ্টি ‘বিষাক্ত’ হয়ে উঠতে পারে। এই বিষাক্ত বৃষ্টি ত্বকে লাগলে রাসায়নিক ক্ষত এবং ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া জরুরি নির্দেশনা:

১. বিস্ফোরণ-পরবর্তী বৃষ্টির সময় কোনো অবস্থাতেই ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না।

২. বাইরে থাকা অবস্থায় দ্রুত কংক্রিট বা ধাতব ছাদের নিচে আশ্রয় নিতে হবে; গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৩. বৃষ্টির পানি ত্বকের সংস্পর্শে এলে কোনোভাবেই ঘষা যাবে না; কেবল অবিরাম ঠান্ডা পানির ধারা দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধুয়ে ফেলতে হবে।

৪. বৃষ্টির পানিতে ভেজা পোশাক দ্রুত বদলে ফেলে একটি সিল করা ব্যাগে ভরে রাখতে হবে।

তেল স্থাপনায় হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরান প্রদেশে ব্যক্তিগত কার্ডের মাধ্যমে প্রতিদিনের জ্বালানি তেলের কোটা ৩০ লিটার থেকে কমিয়ে ২০ লিটারে নামিয়ে এনেছেন গভর্নর। ফার্স নিউজ এজেন্সি এই খবর নিশ্চিত করেছে।

তবে তেহরানের গভর্নর নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহের এই বিঘ্ন দ্রুতই সমাধান করা হবে। এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি মাত্র দুই-তিন দিনের জন্য কার্যকর থাকবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় আগের কোটা বহাল করা হবে। তিনি জনগণকে জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত