Ajker Patrika

কুর্দিদের এখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠাতে চান না ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কুর্দিদের এখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠাতে চান না ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, তিনি চান না ইরাকের কুর্দি যোদ্ধারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিক। অথচ এর আগে তিনি এই ধারণার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন। এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ট্রাম্প এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না কুর্দিরা ইরানে ঢুকুক...তারা যেতে চায়, কিন্তু আমি তাদের বলেছি—আমি চাই না তারা সেখানে যাক...যুদ্ধ এমনিতেই যথেষ্ট জটিল...আমরা চাই না কুর্দিরা আহত হোক বা নিহত হোক।’ ইরানের সঙ্গে সংঘাতে নিহত ছয় মার্কিন সেনার মরদেহ দেশে ফেরানোর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তিনি এই কথা বলেন।

তিনি এমন সময়ে এই মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প কুর্দিদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘তারা যদি এটা করতে চায়, সেটা দারুণ ব্যাপার হবে। আমি পুরোপুরি সমর্থন করব।’ এ সময় কুর্দি নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে তার আলোচনা হয়েছিল বলেও খবর প্রকাশিত হয়।

কিন্তু প্রেসিডেন্টের অবস্থান হঠাৎ বদলে যাওয়ার কারণ স্পষ্ট হয়নি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে ইরাকভিত্তিক ইরানি কুর্দি বাহিনীর সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ধারণা আলোচনায় আসে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন এমন পদক্ষেপকে উৎসাহ দিচ্ছে।

শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ট্রাম্প বলেছিলেন, কুর্দিরা যদি সীমান্ত অতিক্রম করে ইরানে প্রবেশ করে তবে সেটি ‘দারুণ’ হবে। তাঁর এই মন্তব্যের আগে কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরাকি কুর্দি গোষ্ঠীর সদস্যরা ইতিমধ্যে ইরানে প্রবেশ করেছে। তবে ইরাক সরকার এবং স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চল এই দাবি অস্বীকার করে। তারা জানায়, ‘প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলার সূচনা পয়েন্ট হিসেবে ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার করা যাবে না।’

কুর্দি কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এপি এবং ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে কুর্দি নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অভিযানে সহায়তা চেয়েছেন। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর ইরাকে অবস্থান করা ইরানি কুর্দি ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠীগুলো সীমান্ত পার হয়ে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি কুর্দিদের তাদের সমর্থন দিতে বলেছিল।

শুক্রবার রয়টার্স আরও জানায়, পশ্চিম ইরানের কিছু এলাকায় ইসরায়েল বোমা হামলা চালাচ্ছে, যাতে ইরানি কুর্দি মিলিশিয়ারা সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সীমান্তের কাছাকাছি শহরগুলো দখল করতে পারে। সংস্থাটি ইসরায়েলের ওই গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্রের উদ্ধৃতি দেয়।

শনিবারের মন্তব্যে ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধের প্রথম দিন দক্ষিণ ইরানের একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে হামলা হয় এবং যাতে প্রায় ১৫০ জন নিহত হয় বলে জানা গেছে, তার পেছনে ইরানই দায়ী বলে তিনি মনে করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ তদন্তে নাকি দেখা গেছে, ওই হামলাটি সম্ভবত মার্কিন বাহিনীরই ছিল। এ সময় ট্রাম্প এমন প্রতিবেদনও খারিজ করে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে—রাশিয়া ইরানকে যুদ্ধের সময় গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। তিনি দাবি করেন, মস্কো তেহরানকে সমর্থন দিচ্ছে এমন কোনো ইঙ্গিত নেই।

তিনি আবারও বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয়। বরং তিনি চান পরবর্তী নেতা কে হবেন তা নির্ধারণ করতে, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে নতুন নেতৃত্ব দেশটিকে আর যুদ্ধে নিয়ে যাবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত