Ajker Patrika

হরমুজ ‘বন্ধ’ থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি এখন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হরমুজ ‘বন্ধ’ থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি এখন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি
ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি গত সপ্তাহে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের স্তর পার হয়ে গেছে। তবে ইরানকে বাদ দিয়ে এই হিসাব করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চললেও এমনটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম সাপ্তাহিক গড় তেল রপ্তানি কয়েক দিন ধরে সংঘাত শুরুর আগের দৈনিক ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেলের গড় মাত্রার ওপরে উঠেছে।

কেপলার গত বুধবার জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল রপ্তানি যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রায় পৌঁছায়। ওই মাসে ইরানকে বাদ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অন্তত ১ কোটি ৬৫ লাখ ব্যারেল তেল বের হয়েছে। কেপলার বলেছে, ‘এখন ৪০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে যাচ্ছে এবং প্রণালি দিয়ে যাওয়া বেশির ভাগ অপরিশোধিত তেলের ট্যাংকার সমুদ্রে থাকা অবস্থায় পরিবর্তন করা হচ্ছে।’

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, বেশির ভাগ তেল সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়েছে।

এই হিসাবের মধ্যে লোহিত সাগর দিয়ে যাওয়া তেলও রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে যে অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে, তা এড়িয়ে যেতে এই পথটি ক্রমেই বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত।

ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে। দেশটির অনুমোদন ছাড়া চলাচল করা জাহাজগুলো হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ক্রমেই বেশি সংখ্যক জাহাজ প্রণালি পার হয়ে বেরিয়ে আসছে। একই সঙ্গে জলপথটি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত বিকল্প রুটগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রয়েছে।

তেল রপ্তানি আবার বেড়ে গেলেও বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হওয়ার কাছাকাছি নয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধের কারণে ইরান তার নিজস্ব তেল রপ্তানির বড় একটি অংশ থেকেও বঞ্চিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে এই পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।

সৌদি আরব তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন পুনরায় চালু হওয়ায় সুবিধা পাচ্ছে। এই পাইপলাইন দেশটির পূর্বাঞ্চলের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলোকে লোহিত সাগরের তীরের ইয়ানবু টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহন করতে পারছে। ইরাক থেকে চালানো হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ১১ সেপ্টেম্বর পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কেপলারের বিশ্লেষক আমেনা বকর গত সপ্তাহে জানান, ২২ সেপ্টেম্বর পাইপলাইনটির কার্যক্রম আবার শুরু হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতও হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানি করতে পারছে। এর কারণ, দেশটির এমন একটি পাইপলাইন রয়েছে, যা আবুধাবির তেলক্ষেত্রগুলোকে ফুজাইরাহর সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফুজাইরাহ হলো ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত একটি টার্মিনাল, যা হরমুজ প্রণালির ঠিক বাইরে।

আজ সোমবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ৩ টা ১০ মিনিটের দিকে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য নির্ধারিত নর্থ সি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দশমিক ৭৯ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০১ দশমিক ৪৪ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, নভেম্বর সরবরাহের জন্য নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ২০ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়ায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত