পারস্য উপসাগর অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি চার সপ্তাহ পার করেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারস্পরিক চাপ অব্যাহত থাকায় এই যুদ্ধবিরতি এখন গুরুতর ঝুঁকির মুখে। পরিস্থিতি এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল সিদ্ধান্তও আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
এই বিষয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—যুদ্ধবিরতির ফলে কূটনৈতিক সমাধানের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেছিলেন। তবে সেই আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হয়। পাকিস্তান এখনো মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তাতে তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। উভয় পক্ষই চুক্তি করতে আগ্রহী হলেও, তারা নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং কেউই ছাড় দিতে রাজি নয়।
এই অচলাবস্থার মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ভুল ব্যাখ্যা ও ভুল হিসাব। ইতিহাস বলছে, এমন পরিস্থিতিতেই সংকট দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং যুদ্ধ তীব্রতর হয়। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে দুটি জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করানোর যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত ইরানের প্রতিক্রিয়া উসকে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন—এটি এখানেই থামবে, নাকি পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
হরমুজ প্রণালি বর্তমানে এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দু। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এটি ছিল আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও জানিয়েছেন, আগের অবস্থায় ফেরার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।
এই প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দেয়। তেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় হিলিয়াম এবং কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদনেও সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তাহীন দেশগুলোতে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং কঠোর অবস্থান তাঁকে হতাশ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সহজ বিজয়ের আশা করে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তই এখন যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত জটিলতায় ফেলেছে।
এদিকে ইরান দেখিয়েছে, তারা সংঘাত আরও বাড়াতে প্রস্তুত। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর—যা হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত এবং তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রটি ইরানের নজরে রয়েছে। এর ফলে আমিরাত উদ্বিগ্ন এবং তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করছে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক। যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে হলে উভয় পক্ষকেই সমঝোতার পথে আসতে হবে। অন্যথায়, একটি ছোট ঘটনা থেকেই আবার বৃহৎ যুদ্ধের সূচনা হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সারা বিশ্বের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে।

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে। ‘রিসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অব লজিস্টিকস সাপোর্ট’ (আরইএলওএস) নামে এই চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ একে অপরের সামরিক ঘাঁটি, বন্দর ও বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার সৈন্য পরস্পরের ভূখণ্ডে...
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যটিতে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তকে তীব্র আক্রমণ করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
৪ ঘণ্টা আগে
ভারতের তামিলনাড়ুতে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে কংগ্রেসের সমর্থন চেয়েছেন টিভিকে দলের প্রধান ও অভিনেতা বিজয় থালাপতি। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা কেসি বেণুগোপাল এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
৪ ঘণ্টা আগে
বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পরও যুদ্ধবিরতি শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম, আমরা নিজেদের রক্ষা করব এবং জোরালোভাবে রক্ষা করব এবং সেটাই আমরা করছি।’
৭ ঘণ্টা আগে