ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে। ‘রিসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অব লজিস্টিকস সাপোর্ট’ (আরইএলওএস) নামে এই চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ একে অপরের সামরিক ঘাঁটি, বন্দর ও বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার সৈন্য পরস্পরের ভূখণ্ডে অবস্থান করতে পারবে।
মঙ্গলবার (৫ মে) নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটি গত বছর স্বাক্ষরিত হলেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। এটির মেয়াদ পাঁচ বছর। প্রয়োজনে এটি আরও বাড়ানো যাবে। সম্প্রতি রাশিয়ার সরকারি আইনবিষয়ক পোর্টালে এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়। এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই চুক্তিকে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ‘নতুন অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
চুক্তির আওতায়, দুই দেশ সাময়িকভাবে একে অপরের ঘাঁটিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার সৈন্য,৫টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১০টি সামরিক বিমান মোতায়েন করতে পারবে। পাশাপাশি, ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো আর্কটিক অঞ্চলে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই চুক্তির প্রেক্ষাপটও তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েনে রয়েছে এবং এশিয়ায় নতুন অংশীদার খুঁজছে। অন্যদিকে, জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা—এই সহযোগিতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ জানিয়েছে, আরইএলওএস চুক্তি শুধু সামরিক মোতায়েন নয়, বরং যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং অন্যান্য রসদ সহায়তার ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। এ ছাড়া এটি দুই দেশের আকাশসীমা ব্যবহার এবং বন্দরে প্রবেশ প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি প্রচলিত অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের বাইরে গিয়ে সামরিক আন্তঃসম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। ভারতের যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই রকম চুক্তি থাকলেও সেগুলোতে সৈন্য বা যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয়।
এদিকে ভারত ও রাশিয়ার এই ঐক্যকে বিশেষজ্ঞরা সামরিক জোট হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের মতে, এটি মূলত একটি রসদ সহায়তা কাঠামো, যা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে। ফলে এটি স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বা যৌথ যুদ্ধের ইঙ্গিত নয়, বরং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের একটি নমনীয় ব্যবস্থা।

পারস্য উপসাগর অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি চার সপ্তাহ পার করেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারস্পরিক চাপ অব্যাহত থাকায় এই যুদ্ধবিরতি এখন গুরুতর ঝুঁকির মুখে। পরিস্থিতি এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল সিদ্ধান্তও আবার পূর্ণমাত্রার...
২২ মিনিট আগে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যটিতে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তকে তীব্র আক্রমণ করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
৩ ঘণ্টা আগে
ভারতের তামিলনাড়ুতে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে কংগ্রেসের সমর্থন চেয়েছেন টিভিকে দলের প্রধান ও অভিনেতা বিজয় থালাপতি। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা কেসি বেণুগোপাল এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পরও যুদ্ধবিরতি শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম, আমরা নিজেদের রক্ষা করব এবং জোরালোভাবে রক্ষা করব এবং সেটাই আমরা করছি।’
৬ ঘণ্টা আগে