Ajker Patrika

সৌদি আরবের অনুরোধে হুতিদের ওপর হামলার কথা বিবেচনা করছে পাকিস্তান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৪৮
সৌদি আরবের অনুরোধে হুতিদের ওপর হামলার কথা বিবেচনা করছে পাকিস্তান
বন্দরনগরী হোদাইদাহের দক্ষিণে হাইজ জেলার একটি সড়কে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী। ছবি: এএফপি

সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের ভিত্তিতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ওপর সরাসরি বিমান হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে পাকিস্তান। তুর্কি সংবাদমাধ্যম তুর্কিয়ে টুডেকে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে শিগগির এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হতে পারে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

প্রাথমিক সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইয়েমেনের সায়াদাহ অঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকা থেকে হুতি বিদ্রোহীদের সমূলে উৎখাত করতে যৌথ হামলায় অংশ নিতে পারে পাকিস্তান। তবে এ বিষয়ে ইসলামাবাদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সবুজসংকেত দেয়নি।

২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত জুলাই মাসে ভেঙে যায়। এর পর থেকে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো ও তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে অনবরত হামলা চালিয়ে আসছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। লোহিতসাগরে সৌদি জাহাজের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ ও হামলা জোরদার করায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি বাধার মুখে পড়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন হুতিরা সৌদি আরবের আবহা, জাজান, নাজরান ও খামিস মুসাইত শহরের একাধিক জ্বালানিকেন্দ্র এবং নগরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ওই হামলায় অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন এবং প্রধান জ্বালানিকেন্দ্রগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। এর জবাবে সৌদি বিমানবাহিনী ইয়েমেনের আল-জাউফ, মারিব ও আল-হুদায়দায় একাধিক বিমান হামলা চালায়।

মক্কা চুক্তির প্রয়োগ ও নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সৌদি আরবে যেকোনো সশস্ত্র হামলা হলে তা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে সক্রিয় করতে পারে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই চুক্তির আওতায় এক সদস্যরাষ্ট্রের ওপর হামলা জোটের সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

চলতি বছরের ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে এই ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক, বিশ্বের একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান ও বিশাল আর্থিক সম্পদের অধিকারী সৌদি আরব এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়।

ইতিমধ্যে পাকিস্তানে তৈরি সামরিক বিমান, ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থাসহ প্রায় আট হাজার সেনাসদস্য সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন রয়েছেন। তবে এবার পাকিস্তান সরাসরি ইয়েমেনের ভেতরে বোমাবর্ষণ শুরু করলে তা হবে মক্কা চুক্তির প্রথম বৃহৎ সামরিক প্রয়োগ, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক রাজনীতি বিশ্লেষক জিশান শাহ বলেন, যদি রিয়াদ হুতিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান শুরু করে, সে ক্ষেত্রে পাকিস্তান সরাসরি বিমান হামলায় অংশ না নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ায় সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের ফলে ইসলামাবাদ নীতিগত অবস্থান কঠোর করছে।

তথ্যসূত্র: তুর্কিয়ে টুডে

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত