Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রে ২৪৫ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো চুরির দায় স্বীকার সিঙ্গাপুরের যুবকের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ০৫
যুক্তরাষ্ট্রে ২৪৫ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো চুরির দায় স্বীকার সিঙ্গাপুরের যুবকের
মিয়ামির একটি নাইটক্লাবে ডলারের বান্ডিল হাতে ম্যালোন ল্যাম। ছবি: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রে ২৪৫ মিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন চুরি ও অর্থ পাচারের ঘটনায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন সিঙ্গাপুরের নাগরিক ম্যালোন ল্যাম। মার্কিন বিচার বিভাগের (ডিওজে) দাবি, এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনাগুলোর একটি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিবিসি জানায়, ২২ বছর বয়সী ল্যাম তাঁর বন্ধু ও সহযোগীদের নিয়ে গড়ে তোলা একটি আন্তর্জাতিক চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল পরিমাণ বিটকয়েন চুরি করেন। পরে সেই অর্থ পাচার করে বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করা হয়।

ডিওজে জানিয়েছে, কোনো কোনো রাতে ল্যাম ও তাঁর সহযোগীরা নাইটক্লাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ করতেন। তাঁরা এক লাখ থেকে ৩৮ লাখ ডলার মূল্যের একাধিক বিলাসবহুল গাড়িও কিনেছিলেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ‘অ্যান হ্যাথাওয়ে’, ‘$$$’ ও ‘কিং গ্রেভি’ নামেও পরিচিত ছিলেন ল্যাম। তিনি ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা এবং চক্রের সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করতেন। অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়া, কানেকটিকাট, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও দেশের বাইরে থাকা সহযোগীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়।

ডিওজে জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হতো। কখনো কখনো তাঁদের বাড়িতে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এসব তথ্য ব্যবহার করে তাঁদের ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট খালি করে দেওয়া হতো।

চুরি করা অর্থ দিয়ে দামি হার্মিস বার্কিন ব্যাগও কেনা হয়। নাইটক্লাবের পার্টিতে ভিড়ের মধ্যে এসব ব্যাগ ছুড়ে দেওয়া হতো। এ ছাড়া পাঁচ লাখ ডলার পর্যন্ত মূল্যের বিলাসবহুল ঘড়ি; হাজার হাজার ডলারের পোশাক; লস অ্যাঞ্জেলেস, হ্যাম্পটনস ও মায়ামিতে বিলাসবহুল বাড়ি এবং ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভাড়া করত চক্রটি। নিরাপত্তার জন্য তারা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীও নিয়োগ করেছিল।

এসব দামি গাড়ি ব্যবহার করত ল্যামের চক্রটি। ছবি: বিবিসি
এসব দামি গাড়ি ব্যবহার করত ল্যামের চক্রটি। ছবি: বিবিসি

ল্যাম ১৪ বছর বয়সে সিঙ্গাপুরে মাধ্যমিক স্কুল ছেড়ে দেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তিনি দেশটিতে থেকে যান। আদালতের নথি অনুযায়ী, অপরাধী চক্রটির কার্যক্রম অন্তত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত চলেছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এফবিআই ল্যাম ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করার পর চক্রটির কার্যক্রম ভেঙে পড়ে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার তথ্যও সামনে আসে।

মার্কিন জেলা বিচারক কলিন কলার-কোটেলি ল্যামের সাজা ঘোষণার তারিখ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করেননি। সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে তাঁর।

এ ঘটনায় ল্যামের সহযোগী ইভান ট্যাঙ্গেম্যানকে চলতি বছরের এপ্রিলে ৭০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ল্যাম গ্রেপ্তারের পর প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টাও করেছিলেন ট্যাঙ্গেম্যান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত