Ajker Patrika

অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখলদার বসতি স্থাপনকারীদের জন্য কনস্যুলেট খুলছে যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ৪৮
অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখলদার বসতি স্থাপনকারীদের জন্য কনস্যুলেট খুলছে যুক্তরাষ্ট্র
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি এফরাত। ছবি: এএফপি

অধিকৃত পশ্চিম তীরের দুটি অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে প্রথমবারের মতো অন-সাইট বা সরাসরি উপস্থিত হয়ে কনস্যুলার সেবা প্রদান করবে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

আগের নীতি ও আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে নেওয়া এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে সমালোচনা করেছেন।

পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে একটি উদ্যোগের অধীনে তারা শুক্রবার পশ্চিম তীরের এফরাত (Efrat) বসতিতে আমেরিকানদের জন্য ‘শুধু এক দিনের জন্য’ নিয়মিত পাসপোর্ট সেবা প্রদান করবে।

১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ। জেরুজালেম থেকে প্রায় ৭ মাইল (১২ কিমি) দক্ষিণে অবস্থিত এফরাত বসতিতে প্রায় ১২ হাজার ইসরায়েলি বসবাস করে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ‘উপনিবেশ ও প্রাচীর প্রতিরোধ কমিশন’ এক বিবৃতিতে বলেছে, এই উদ্যোগ ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং দখলদার কর্তৃপক্ষের (ইসরায়েল) প্রতি নগ্ন পক্ষপাতিত্ব।’ কমিশনপ্রধান মুয়াইয়াদ শাবান বলেন, এই পদক্ষেপ ‘একটি বসতি বাস্তবতাকে সুসংহত করে যা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে।’ হামাস একে ‘বিপজ্জনক নজির’ এবং ‘বসতি স্থাপনের বৈধতা ও পশ্চিম তীরের ওপর দখলদারদের নিয়ন্ত্রণের ব্যবহারিক স্বীকৃতি’ বলে অভিহিত করেছে।

জেরুজালেমের মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে দ্বিতীয় আরেকটি ইসরায়েলি বসতি বেইতার ইলিতের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি শহর রামাল্লা এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরের তিনটি শহরেও একই ধরনের কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হবে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার মার্কিন এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। পশ্চিম তীরের বাইবেলীয় নাম ব্যবহার করে তিনি বলেন, ‘আমরা জুডিয়া ও সামারিয়ার এফরাতে কনস্যুলার সেবা সম্প্রসারণে মার্কিন দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।’

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির সিনিয়র পলিসি ফেলো হিউ লভাট বলেছেন, এই নতুন নীতির উদ্দেশ্য এবং প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘প্রেক্ষাপটটি খুবই পরিষ্কার। মাইক হাকাবি (ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত) বৃহত্তর ইসরায়েল দর্শনের একজন ঘোষিত প্রবক্তা এবং জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত সেই দর্শন বাস্তবায়নকে সমর্থন করেন। এটি একটি সংকেত যে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোকে ইসরায়েলের ভেতরের শহরগুলোর চেয়ে আলাদা কোনো চোখে দেখবে না।’

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে এবং বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা সহজ করার লক্ষ্যে কিছু ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে। ফিলিস্তিনিরা একে ‘কার্যত ভূখণ্ড দখল’ বলে অভিহিত করেছে।

ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি দীর্ঘস্থায়ী মার্কিন নীতির সঙ্গে সংগতি রেখে ইসরায়েল কর্তৃক পশ্চিম তীর দখলের বিরোধী। তবে গত বছর তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলেও তাঁর প্রশাসন তা বন্ধ করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং সেনাবাহিনীর অভিযান বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, একটি গ্রামে হামলার সময় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা একজন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে।

মঙ্গলবার দক্ষিণ হেবরন হিলসের মাসাফের ইয়াত্তা এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকাটি বারবার উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে জেরুজালেমে তাদের দূতাবাস এবং তেল আবিবের একটি শাখা অফিসের মাধ্যমে পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা প্রদান করে। পশ্চিম তীরে বসবাসকারী মার্কিন-ইসরায়েলি দ্বৈত নাগরিকদের সংখ্যা কয়েক লাখ বলে ধারণা করা হয়।

পশ্চিম তীরের বেশির ভাগ অংশই ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে পশ্চিমা-সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে কিছু এলাকায় সীমিত ফিলিস্তিনি স্বায়ত্তশাসন রয়েছে।

নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট, যাদের একটি বড় ভোটার ভিত্তি এই বসতিগুলোতে রয়েছে, এমন অনেক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে; যারা পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চায়। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে দখল করা এই ভূমির সঙ্গে ইসরায়েল তার বাইবেলীয় ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে থাকে।

এফরাত, যে ইহুদি বসতিতে শুক্রবার মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তারা পাসপোর্ট সেবা দেবেন, সেখানে অনেক আমেরিকান অভিবাসী বসবাস করেন।

৩ মিলিয়ন ফিলিস্তিনির আবাসস্থল পশ্চিম তীরে বর্তমানে ৫ লক্ষাধিক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বাস করে। বেশির ভাগ বসতিই ছোট শহর আকৃতির, যা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা এবং ইসরায়েলি সৈন্যদের দ্বারা পাহারা দেওয়া হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগ নেতাদের জামিন হলেই গ্রেপ্তারের নির্দেশ, রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির চিঠি

গভর্নর আহসান মনসুর বেরিয়ে যাওয়ার পর বের করে দেওয়া হলো তাঁর উপদেষ্টাকেও

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের পরিচয় ও যোগ্যতা

উদ্যোক্তা থেকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

আহসান মনসুরের নিয়োগ বাতিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত