Ajker Patrika

চীনা পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের পাইলট গ্রেপ্তার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১: ১৪
চীনা পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের পাইলট গ্রেপ্তার
চীনা পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে এক সাবেক এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: মার্কিন বিমানবাহিনী

যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর এক সাবেক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ এই ‘এলিট ফাইটার পাইলট’ বেআইনিভাবে চীনা সামরিক পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজের দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মার্কিন এয়ারফোর্সের সাবেক মেজর জেরাল্ড ব্রাউনের পাইলট হিসেবে কল সাইন ছিল ‘রানার।’ গতকাল বুধবার তাঁকে ইন্ডিয়ানায় গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি অনুমোদন ছাড়া চীনা পাইলটদের প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত সেবা দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে ষড়যন্ত্র করেছেন।

৬৫ বছর বয়সী ব্রাউন ছিলেন মার্কিন পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষক পাইলট। বিমানবাহিনীতে তাঁর কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এফবিআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ও গুপ্তচরবৃত্তি বিভাগের সহকারী পরিচালক রোমান রোঝাভস্কি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ব্রাউন শপথ নিয়েছিলেন যাদের রক্ষা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য চীনা পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তিনি নিজের দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘চীনা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক সামরিক সদস্যদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আধুনিক করছে। এই গ্রেপ্তার একটি সতর্কবার্তা।’

ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জিনিন ফেরিস পিরো বলেন, ব্রাউন এবং ‘আমাদের জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত যে কেউ’ তাদের কাজের জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হবেন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাউন ২৪ বছর যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যুদ্ধ মিশন পরিচালনা করেছেন। তিনি সংবেদনশীল ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বহনকারী ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত ইউনিটও ছিল।

এর আগে ১৯৯৬ সালে সামরিক বাহিনী ছাড়ার পর ব্রাউন বাণিজ্যিক কার্গো পাইলট হিসেবে কাজ করেন। পরে তিনি প্রতিরক্ষা ঠিকাদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটদের এফ-৩৫ এবং এ-১০ যুদ্ধবিমান চালানোর প্রশিক্ষণ দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্রাউন চীনে যান চীনা পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিতে। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগপর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন।

বিচার বিভাগের ভাষ্য, চীনা পাইলটদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্রাউনের চুক্তিটি আলোচনা করেছিলেন স্টিফেন সু বিন নামের এক চীনা নাগরিক। তিনি ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারের সিস্টেমে হ্যাক করে চীনের জন্য সামরিক গোপন তথ্য চুরির ষড়যন্ত্রে দোষ স্বীকার করেন। পরে তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ব্রাউনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাবেক যুক্তরাষ্ট্র মেরিন কোরের পাইলট ড্যানিয়েল ডাগানের মামলার মতো। ডাগানকে ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে লড়ছেন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মস এক্সপোর্ট কন্ট্রোল অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, তিনি চীনা সশস্ত্র বাহিনীকে পাইলট প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। ডাগান ২০২৫ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আপিল করেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মার্ক ড্রেফাস তার প্রত্যর্পণ অনুমোদন করেছিলেন।

৫৭ বছর বয়সী ডাগান একজন স্বাভাবিকীকৃত অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। তিনি ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। এর কিছুদিন আগে তিনি চীন থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরেছিলেন। তিনি ২০১৪ সাল থেকে চীনে বসবাস করছিলেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ডাগানের আইনজীবী ক্রিস্টোফার পারকিন আদালতকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার মক্কেলের প্রত্যর্পণ অস্ট্রেলিয়ার জন্য ‘অজানা ক্ষেত্র।’

তিনি যুক্তি দেন, তাঁর মক্কেলের কাজ অস্ট্রেলিয়ায় অপরাধ ছিল না। যখন ঘটনাটি ঘটেছে তখনো নয়, এমনকি যখন যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায় তখনো নয়। তাই যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যর্পণ চুক্তিতে থাকা ‘দ্বৈত অপরাধ’ শর্ত এখানে প্রযোজ্য নয়। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকার যৌথভাবে একটি নোটিশ প্রকাশ করে। এতে তাদের বর্তমান ও সাবেক সামরিক সদস্যদের সতর্ক করা হয়। বলা হয়, চীন পশ্চিমা সামরিক দক্ষতা কাজে লাগাতে এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে তাদের নিয়োগের চেষ্টা করছে। ন্যাটোর সামরিক সদস্যরাও এ লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছেন।

নোটিশে বলা হয়, পিএলএ বা পিপলস লিবারেশন আর্মি পশ্চিমা সামরিক সদস্যদের কাছ থেকে যে তথ্য ও অভিজ্ঞতা পায়, তা লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যক্তিদের, তাদের সহকর্মীদের এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে। এতে আরও বলা হয়, কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীকে অনুমোদন ছাড়া প্রশিক্ষণ বা বিশেষজ্ঞ সেবা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেওয়ানি ও ফৌজদারি শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত