Ajker Patrika

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ২২: ১৯
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে। এতে উদ্ধার অভিযানে নতুন আশার সঞ্চার হলেও দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, দুর্গত এলাকাগুলোয় মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।

ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্লেইবার মোরান নামের শিশুটিকে লা গুইরা অঙ্গরাজ্যের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়ার পর ঘটনাস্থলেই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়। জর্ডানের সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এই ঘটনাকে দেশের মানুষের জন্য ‘আশার উৎস’ বলে উল্লেখ করেছেন। জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এই উদ্ধার প্রমাণ করেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো জীবিত মানুষ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধসে পড়া ভবনগুলোয় তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে এবং দুর্গতদের জন্য বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ধরা হয়। সেই সময়সীমা পেরিয়ে ছয় দিন পর শিশুটির জীবিত উদ্ধার হওয়া একটি বিরল ঘটনা।

৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে। তবে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রলয়ংকরী ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাদ্যসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। লা গুইরায় যোগাযোগব্যবস্থা ও জরুরি সেবার বড় অংশই ভেঙে পড়েছে। সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ছে। সংস্থাটি জরুরি সহায়তা সম্প্রসারণের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার তহবিলের আবেদন জানিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো টিকাদানযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এখনো জীবিতদের খুঁজে চলেছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘের মাধ্যমে ৪৭ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে হাজারো পরিবার এখনো নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অপেক্ষা করছে আর অনেকেই তাঁদের প্রিয়জনদের শেষ বিদায় জানাতে শুরু করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত