Ajker Patrika

কেপ ভার্দে: আগুন থেকে জন্ম নিয়েছে যে দ্বীপের মানুষেরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কেপ ভার্দে: আগুন থেকে জন্ম নিয়েছে যে দ্বীপের মানুষেরা
কেপ ভার্দের ফোগো দ্বীপের একদল শিশু। ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে আছে দশটি আগ্নেয় দ্বীপের একটি ছোট্ট দেশ—কেপ ভার্দে, যার সরকারি নাম কাবো ভার্দে। আয়তনে ছোট আর জনসংখ্যায় ক্ষুদ্র এই দেশটি এখন বিশ্ব জুড়ে আলোচনায়। বিশ্বকাপ ফুটবলের হাত ধরে কেপ ভার্দের নাম আলোচনায় এলেও এই দ্বীপদেশের গল্প শুধু ফুটবলের নয়। এখানে রয়েছে আগুন, সমুদ্র এবং টিকে থাকার এক অনন্য কাহিনিও।

লাখ লাখ বছর আগে সমুদ্রতলের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে জন্ম হয়েছিল এই দ্বীপগুলোর। আজও সেই ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের সবচেয়ে জীবন্ত সাক্ষী ফোগো দ্বীপের ‘পিকো দো ফোগো’ আগ্নেয়গিরি। প্রায় তিন হাজার মিটার উচ্চতার এই আগ্নেয়গিরিতে বহুবার অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। লাভার স্রোত গ্রাম ভাসিয়ে দিয়েছে, মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছে। তবু মানুষ আবারও ফিরে এসেছে। নতুন করে ঘর বানিয়েছে, আঙুরের বাগান করেছে, নতুন করে জীবন শুরু করেছে। যেন আগুনের ভেতর থেকেই পুনর্জন্ম নেওয়া তাদের নিয়তি।

কেপ ভার্দের প্রকৃতিও বৈচিত্র্যময়। কোথাও খাড়া পাহাড়, কোথাও শুষ্ক আগ্নেয় সমভূমি, কোথাও আবার নীল সমুদ্রঘেরা বালুকাবেলা। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় দেশটি দীর্ঘদিন ধরে খরা ও পানির সংকটের সঙ্গে লড়াই করেছে। কিন্তু প্রতিকূলতার মধ্যেও এখানকার মানুষ নিজেদের জন্য একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলেছে, যা আফ্রিকার সফল গণতন্ত্রগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।

কেপ ভার্দের আরেকটি বড় পরিচয় তার মানুষ। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ছয় লাখ হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী কেপ ভার্দিয়ানদের সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। পর্তুগাল, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে থাকা এসব প্রবাসী আজও সমুদ্রপারের মাতৃভূমির সঙ্গে গভীর বন্ধনে আবদ্ধ। তাদের জীবনে যেমন আছে যাত্রা ও বিচ্ছেদের গল্প, তেমনি আছে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা।

এই আবেগ সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে কেপ ভার্দের সংগীতে। দেশটির কিংবদন্তি শিল্পী সিজারিয়া এভোরা ‘দ্য বেয়ারফুট ডিভা’ নামে পরিচিত। তাঁর গানে উঠে এসেছে সমুদ্রযাত্রা, অপেক্ষা, ভালোবাসা ও হারিয়ে যাওয়ার বেদনা। তাঁর কণ্ঠ যেন পুরো জাতির স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রতিধ্বনি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কেপ ভার্দে হয়তো ফুটবলের এক নতুন বিস্ময়। কিন্তু মাঠের বাইরের গল্পটি আরও গভীর। এটি এমন এক দেশের গল্প, যার জন্ম আগুনে, যার জীবন সমুদ্রের সঙ্গে, আর যার মানুষেরা বারবার প্রমাণ করেছে—প্রকৃতি যত কঠিনই হোক, আশা ও সাহসের শক্তি তার চেয়েও বড়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত