Ajker Patrika

আন্দিজ পর্বতমালায় হাজারো গর্তের রহস্য উন্মোচনের দাবি বিজ্ঞানীদের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আন্দিজ পর্বতমালায় হাজারো গর্তের রহস্য উন্মোচনের দাবি বিজ্ঞানীদের
ছবি: সিএনএন

পেরুর দক্ষিণে পিসকো ভ্যালির এক বিস্ময়কর প্রত্নস্থল—মন্টে সিয়ের্পে বা ‘সর্প পর্বত’। এই পর্বতেরই দীর্ঘ প্রায় এক মাইলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পাঁচ হাজারেরও বেশি গর্ত নিয়ে গত এক শতাব্দী ধরে মাথা ঘামিয়ে আসছেন গবেষকেরা।

১৯৩৩ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের আকাশ থেকে তোলা ছবি প্রথমবারের মতো এই স্থানটির দিকে সবার দৃষ্টি ঘুরিয়েছিল। কিন্তু কোথাও কোনো লিখিত প্রমাণ না থাকায় এই গর্তগুলো বহুদিন ধরেই রহস্য হয়ে ছিল। গর্তগুলোর কারণ হিসেবে প্রতিরক্ষা, হিসাবরক্ষণ, খাদ্য সংরক্ষণ, বাগান করা বা কুয়াশা ধরে পানি সংগ্রহের মতো নানা ধারণাই ঘুরে বেড়িয়েছে গবেষকদের মনে। এমনকি ভিনগ্রহবাসী বা এলিয়েন তত্ত্বের সমর্থকেরাও এসব গর্ত নিয়ে নানা কল্পনা করেছেন।

সর্বশেষ এক গবেষণায় নতুন একটি ব্যাখ্যা পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ড্রোন চিত্রায়ণ ও গর্তের ভেতর পাওয়া পরাগের অণু বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা মত দিয়েছেন—ইনকা সাম্রাজ্যের আগে এটি ছিল একটি জমজমাট বাজার এলাকা। পরে ইনকারা এটি ব্যবহার করত হিসাবরক্ষণ বা কর সংগ্রহের কাজে। গবেষণাটি ‘অ্যান্টিকুইটি’ জার্নালে গত ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার নেতৃত্বদানকারী ড. জ্যাকব বংগার্স বলেছেন, ‘কেন প্রাচীন মানুষজন পাহাড়ের ঢালে ৫ হাজারের বেশি গর্ত তৈরি করেছিলেন? নিশ্চিত উত্তর আমরা এখনো জানি না, কিন্তু নতুন তথ্য আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিচ্ছে।’

ড্রোন প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত

গর্তগুলোর প্রতিটি প্রায় ১ থেকে ২ মিটার চওড়া এবং আধা মিটার থেকে ১ মিটার গভীর। ড্রোনচিত্রে দেখা গেছে, এগুলো প্রায় ৬০টি পৃথক অংশে ভাগ করা এবং প্রতিটি অংশের মাঝে ফাঁকা জায়গা আছে। কোথাও ১২ সারির একটি অংশে পর্যায়ক্রমে সাত ও আটটি গর্তের সারি দেখা গেছে—যা এলোমেলো নয় বরং স্পষ্ট ও সংগঠিত পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়।

মাইক্রো বোটানিক্যাল বিশ্লেষণে গর্তগুলোতে ভুট্টা, বুনো ঘাস, নলখাগড়া, উইলো প্রজাতির পরাগ পাওয়া গেছে—যেগুলো দিয়ে সাধারণত ঝুড়ি তৈরি হতো। গবেষকেরা ধারণা করছেন, বাজারে আনা পণ্যগুলো হয় ঝুড়িতে, নয়তো গর্তের মধ্যে পাতা বিছিয়ে রাখা হতো।

ইনকা সাম্রাজ্যের আগে চিনচা রাজ্যের মানুষজন এখানে এসে ভুট্টা, তুলা, কোকা, মরিচের মতো সামগ্রী বিনিময় করত। গর্তগুলো তখন একেকটি ‘একক’ হিসেবে কাজ করত। যেমন—নির্দিষ্ট সংখ্যক গর্তে ভুট্টা থাকলে তার বিনিময়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক গর্ত ভর্তি তুলা বা কোকা পাওয়া যেত।

ইনকা আমলে ‘হিসাবের খাতা’

গর্তগুলোর বয়স ৬০০–৭০০ বছরের মতো বলে ধারণা। সাইটে পাওয়া সাইট্রাস পরাগ ইঙ্গিত দেয়, স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক যুগে (১৫৩১–১৮২৫) সাইটটির ব্যবহার অব্যাহত ছিল। তবে স্প্যানিশদের অর্থনৈতিক কাঠামোতে এই গর্তগুলো খাপ খাওয়াতে না পারায় স্থানটি ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হয়।

গবেষকদের মতে, ইনকা শাসনামলে গর্তগুলোর বিস্তৃতি বেড়েছিল এবং এগুলো একধরনের বিশাল হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ইনকারা ‘কিপু’ নামে গিঁট দেওয়া দড়ি দিয়ে হিসাব রাখত—মন্টে সিয়ের্পের বিন্যাসে তার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।

উত্তর এখনো বাকি

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রস্তাবনাগুলো আকর্ষণীয় হলেও আরও প্রমাণ প্রয়োজন। তবুও এটি আন্দিজ সভ্যতার অর্থনীতি ও স্থানীয় ঐতিহ্য বোঝার ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখছে।

ড. বংগার্সের ভাষায়, ‘স্থানীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে যে বয়ান আমরা গড়ে তুলি, তার বাস্তব প্রভাব আছে। তাই ব্যাখ্যা নির্মাণে অবশ্যই আদিবাসী দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নিজ দপ্তরেই মারা যান খামেনি, কখন মৃত্যু হয়—জানাল ইরান

রাজধানীর চার স্থানে ছড়ানো লাশের টুকরা, খুনি থাকতেন একই ফ্ল্যাটে: পুলিশ

খামেনিকে হত্যা করে ‘বড় ভুল’ করল যুক্তরাষ্ট্র, পরিণতি কী

কলকাতায় টাঙ্গাইলের সাবেক এমপি জোয়াহেরুলের মৃত্যু, লাশ দেশে আসতে পারে আজ

খামেনির মরদেহ পাওয়া গেছে, ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তার দাবি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত