Ajker Patrika

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে মৃদু আওয়াজ—বাঁচল নবজাতক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে মৃদু আওয়াজ—বাঁচল নবজাতক
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি পাঁচতলা ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ক্ষীণ ফিসফিস শব্দ শুনে এক নবজাতক ও তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে সিএনএন।

জানা যায়, ভূমিকম্পের সময় কলম্বিয়ার ক্যালিতে নিজের অফিস থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন ব্রায়ান ওসোরিও জুলুয়াগা। পথে ‘লা তোরেস দেল লিমোনার’ নামের একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধসে পড়তে দেখে তিনি থেমে যান। ভবনটি একটি পুরো ব্লকজুড়ে বিস্তৃত ছিল। ভূমিকম্পের পর আতঙ্কিত বাসিন্দাদের কেউ ঘুমের পোশাকে, কেউ কাঁদতে কাঁদতে যে যেভাবে পারেন রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

তবে সম্ভাব্য গ্যাস লিকের সতর্কতা উপেক্ষা করে ওসোরিও ধ্বংসস্তূপের কাছে গিয়ে জীবিত কেউ আছেন কি না জানতে চিৎকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি সবাইকে নীরব হতে বলেন। তখন ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ক্ষীণ একটি শব্দ ভেসে আসে—‘হ্যাঁ, আমি এখানে। আমি একটি শিশুর সঙ্গে আছি।’

এ অবস্থায় ওসোরিও সহ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক হাত দিয়ে ধ্বংসাবশেষ সরাতে শুরু করেন। কিন্তু পথ আটকে ছিল বিশাল একটি কংক্রিটের স্ল্যাব। প্রথমবার সেটি তুলতে ব্যর্থ হলেও সবাই মিলে দ্বিতীয়বার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে স্ল্যাবটি কিছুটা ওপরে তোলেন। কয়েকজন সেটি ধরে রাখেন, অন্যরা দ্রুত শিশুটির কাছে পৌঁছানোর পথ তৈরি করেন।

ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা নবজাতকের মাথা তখন বেগুনি রঙের হয়ে গিয়েছিল—শ্বাস নিতে পারছিল না। ধ্বংসাবশেষ সরানোর পর ধীরে ধীরে তার শ্বাস স্বাভাবিক হয় এবং শরীরের রংও ফিরে আসে। উদ্ধার হওয়া শিশুটি একটি ছেলে। ওসোরিও তাকে পুলিশের এক কর্মকর্তার হাতে তুলে দেন। এরপর আহত অবস্থায় আটকে থাকা ওই ব্যক্তিকেও উদ্ধার করা হয়।

এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের তৃতীয় দিন বুধবারও (১২ আগস্ট) উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে চোকো ও পেরেইরা। পেরেইরায় স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকর্মীরা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়েছেন। ক্যালিতেও মঙ্গলবার এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

তবে চোকোর প্রত্যন্ত আদিবাসী অঞ্চলগুলোর অনেক জায়গায় এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছায়নি। ওয়ুনান আদিবাসী নেতা ভিক্টর চামাপুরো জানিয়েছেন, তাদের ‘বুয়েনাভিস্তা’ সংরক্ষিত এলাকার প্রায় সব বাড়িই ধসে পড়েছে। খাদ্য ও ওষুধের জরুরি সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্ধার তৎপরতায় স্যাটেলাইট সেবা ও অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। দেশটির সদ্য দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা অ্যাসপ্রিয়েলাও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা এবং গৃহহীনদের অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত