Ajker Patrika

ভারতজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে দিতে ‘হাইব্রিড’ আন্দোলনে জেন-জি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ৩০
ভারতজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে দিতে ‘হাইব্রিড’ আন্দোলনে জেন-জি
ভারতে জেন-জি আন্দোলনের মুখ নেহা বোরা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল রোববার অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও ছাত্রনেতাকে দিল্লির কেন্দ্রস্থল থেকে পুলিশ আটক করে। পরে অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও জমায়েত পুলিশি কর্ডনে বন্ধ রাখা হলেও আন্দোলনকারীরা দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজপথকে একইভাবে ব্যবহার করে একটি ‘হাইব্রিড’ বা বহুমুখী কৌশল অবলম্বন করছেন তরুণ আন্দোলনকারীরা।

রাজপথে দৌড় ও সামাজিক মাধ্যমের বার্তা

প্রতিবাদের অংশ হিসেবে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) ২৯ বছর বয়সী নেত্রী নেহা বোরা গতকাল দিল্লির ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র কনট প্লেসে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে পুলিশ আটকে করে। পুলিশের ভাষ্য মতে, প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন বা আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাঁকে পুলিশের বাসে তোলা হয়।

পুলিশের বাসে বসে ইনস্টাগ্রামে লাইভ করে নেহা প্রশ্ন তোলেন, ‘এই বাসে চারটি সেল বা খুপরি রয়েছে, যেখানে নিশ্বাস নেওয়ার মতো পরিবেশ নেই। আটক করার বাসগুলোকে কি কারাগারে রূপান্তর করা হচ্ছে?’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে আন্দোলনকারীরা নেহা বোরার মতো একই পোশাক ও চেহারার ছদ্মবেশী সমর্থকও নামিয়েছিলেন। জেন-জি অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকারীরা সামাজিক মাধ্যমে এই লুকোচুরি খেলা ও পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়ার ঘটনাগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করছেন।

জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) গবেষণারত শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী নেহা বোরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ভয় যেমন সংক্রামক, তেমনই আশাও সংক্রামক। জনগণ বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা হতাশা ও প্রতারণার ক্ষোভ বয়ে বেড়াচ্ছে।’

সারা দেশে আন্দোলন ছড়ানোর ঘোষণা

রোববারের এই আটকের ঘটনা ঘটে গত শনিবারের নজিরবিহীন পুলিশি অভিযানের পরদিন। শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করলে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্তত ৩ হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। পরে অবশ্য তাঁদের প্রায় সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের একটি সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক উদ্যোগ থেকে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক সংগঠনের ডাকে এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমর্থনে এই প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়। আটক অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘এই লড়াই কেবল শুরু। প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দিল্লি থেকে শুরু করে পুরো দেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।’

রোববার আটক হওয়া অন্য শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সিপিআইএম সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস, সিপিআই (এমএল)-লিবারেশন-এর সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এবং এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই আন্দোলনকে ‘বিদেশি শক্তির ভারত-বিরোধী ষড়যন্ত্র’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছে। বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলেন, ‘কোকরোচ জনতা পার্টি এবং কংগ্রেস দল এখন কে কার চেয়ে বেশি নৈরাজ্য ছড়াতে পারে, সেই প্রতিযোগিতায় নেমেছে।’

বিরোধীদের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার মুখে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আজ সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে একটি স্মারকপত্র তুলে দেওয়ার উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে প্রতিবাদ পদযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে জমা দেওয়া বিরোধীদের চার দফা দাবির মধ্যে প্রধান হলো: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা প্রদানকারী ২০২৩ সালের আইন বাতিল; ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করা এবং বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনর্বহাল; আগামী সব নির্বাচনে ইভিএমের পরিবর্তে কাগজের ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ; বিগত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর ফলাফল বাতিল করা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত