
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আজ সোমবার সকালে ভারতের কেন্দ্রীয় রাজধানীর জন্তর মন্তরের কাছে ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী জড়ো হলে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে দিল্লি পুলিশ। একই সময়ে অনশনরত সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক ঘোষণা দিয়েছেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে তিনি অনশন ভাঙবেন না।
ভারতে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা নীট (NEET) অনিয়মের অভিযোগে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। সোমবার সকালে যন্তর মন্তরের কাছে ১০ হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হওয়ার পর দিল্লি পুলিশ রাজধানীর সব ১৪টি জেলা থেকে অবিলম্বে একজন করে এসিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং ১০০ জন করে পুলিশ সদস্যকে নিউ দিল্লি জেলায় পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এর আগে থেকেই সেখানে ৩২ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন ছিল। সংসদমুখী সব সড়ক সিল করে দেওয়া হয়, জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ এবং বাড়ানো হয় সিসিটিভি নজরদারি।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার ভোরে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এবং আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থকদের তাঁদের বাসভবনেই আটকে দিয়ে বিক্ষোভস্থলে যেতে বাধা দেয় পুলিশ। তবে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতে না জড়িয়ে বোঝানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
এদিকে যন্তর মন্তরে সমবেত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন সিজেপির মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা। তিনি বলেন, ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি নিয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে শিগগিরই পরবর্তী ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই মিছিল সম্পর্কে জানাব। আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই, সরকার এখন প্রচণ্ড চাপে রয়েছে, আর সেটাই আমাদের বিজয়।’
অন্যদিকে, হাসপাতালে ভর্তি থাকা সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, দুটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ হলেই তিনি তাঁর অনশন ভাঙবেন। প্রথমত, প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন সমস্যার দায় কেন্দ্র সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাঁকে এবং সিজেপি নেতাদের সংসদে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে এবং সংসদ সদস্যরা তাঁদের আশ্বস্ত করবেন যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শারীরিক অবস্থার কারণে যদি তিনি নিজে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারেন, তাহলে রাজনৈতিক নেতাদের সাফদারজং হাসপাতালে এসে তাঁকে আশ্বস্ত করতে হবে যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হবে। স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ওয়াংচুক অভিযোগ করেন, তাঁকে সাফদারজং হাসপাতালে ‘অবৈধভাবে আটক’ করে রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁর চলাফেরা, বক্তব্য দেওয়া এবং যোগাযোগের স্বাধীনতা সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আন্দোলন ঘিরে মধ্য দিল্লিকে কার্যত উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে পরিণত করেছে দিল্লি পুলিশ। সংসদে যাওয়ার সব সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং রাতারাতি যন্তর মন্তরকে চারদিক থেকে সিল করে দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সীমিত করা হয়েছে। সংসদ ভবন, রেল ভবন, ইন্ডিয়া গেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যান, সাঁজোয়া ইউনিট, দাঙ্গা প্রতিরোধকারী পুলিশ সদস্য, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের একাধিক কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারায় জারি করা নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশের কারণে সংসদের দিকে কোনো মিছিল যেতে দেওয়া হবে না। তাদের দাবি, বিক্ষোভকারীরা এ কর্মসূচির জন্য কোনো অনুমতি নেয়নি। ফলে সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে অবৈধ সমাবেশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি দিল্লির সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলার মুখে ইরান পাল্টা আঘাত হানছে ঠিকই, কিন্তু তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিচ্ছে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মতো প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে। মার্কিন নৌ-বহর বা ইসরায়েলি ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা না চালিয়ে কেন ইরান এই কৌশলী পথ বেছে নিয়েছে...
৭ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ভয়াবহ ও অনিশ্চিত মোড় নিয়েছে। আজ সোমবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ঘোষণা দিয়েছে, তারা সৌদি আরবের ওপর একটি নৌ অবরোধ আরোপ করছে। হুতিদের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সংঘাতকে নতুন এক মাত্রায় নিয়ে গেছে...
৮ ঘণ্টা আগে
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন হামাস তাদের নতুন রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে খলিল আল-হাইয়াকে নির্বাচিত করেছে। চলমান যুদ্ধের মধ্যেই অনুষ্ঠিত অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সংগঠনের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসীন হন।
৮ ঘণ্টা আগে
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের উদ্যাপন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সালামাঙ্কা প্রদেশে বিজয় উদ্যাপনের সময় একটি ফোয়ারার অংশ ধসে পড়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
৮ ঘণ্টা আগে