নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ সমাবেশ দিল্লিতে

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিরোধী দলগুলো। রোববার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আয়োজিত এ সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে সরকার। বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যানবাহন ও বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী।
বিক্ষোভকারীরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে, বিভিন্ন দলের পতাকা হাতে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত বিরোধী জোটের শরিক দলগুলো বিভিন্ন রাজ্য থেকে কর্মী-সমর্থকদের দিল্লিতে সমবেত করে। ‘দিল্লি চলো’ নামে এ কর্মসূচিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে রামলীলা ময়দানে মিছিল নিয়ে রওনা হয়। বিরোধী জোটের দাবি, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ।
গত মাস থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করে আসছে বিরোধী দল, শিক্ষার্থী সংগঠন এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পাচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে তারা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে।
বিক্ষোভ দমনে দিল্লিতে শত শত ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতা, বিক্ষোভের সংগঠক ও সাংবাদিকদের। গত মাসে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর অভিযান চালানোর পর ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরকে আনুষ্ঠানিক বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেয়। ফলে রামলীলা ময়দানকে কেন্দ্র করে এবারের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত গত বছরের শুরু হওয়া বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গত সেপ্টেম্বরে এক প্রতিবেদনে জানায়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই উপপ্রধান অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
সংশোধন প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত, ৬ কোটি ৩০ লাখ অন্যত্র স্থানান্তরিত এবং ৩ কোটি মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় মুসলিমসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটাররা তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে বিজেপি নির্বাচনী সুবিধা পেতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, মৃত ও স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। বিজেপিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগকে রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে অভিহিত করেছে।
গত ৩১ অক্টোবর বিরোধী দলগুলো প্রতীকীভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ‘জনগণের অভিশংসন’ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিক্ষোভকারীদের পুলিশের লাঠিচার্জ নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা সমাবেশকে সরকার অস্থিতিশীল করার উদ্দেশে বিদেশি শক্তির ইন্ধনে পরিচালিত ‘পরিকল্পিত নাটক’ বলে মন্তব্য করেন।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগ ভারতের ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার ও সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করে—এমন ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।









