Ajker Patrika

১১ বছর পর বিজেপির আইটি সেল প্রধানের পদত্যাগ, নেপথ্যে কী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
১১ বছর পর বিজেপির আইটি সেল প্রধানের পদত্যাগ, নেপথ্যে কী
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার পেছনে অমিত মালব্যের (ডান থেকে প্রথম) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অমিত মালব্য।

তবে গতকাল সোমবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন দলের যে নতুন জাতীয় সাংগঠনিক টিম ঘোষণা করেছেন, তাতে অমিত মালব্যের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ছত্তিশগড়ের নেতা দীপক মাসকের নাম এসেছে।

২০১৫ সাল থেকে বিজেপির ডিজিটাল প্রচারণা ও সামাজিক মাধ্যমে দলের অবস্থান শক্ত করতে মূল ভূমিকা পালন করা অমিত মালব্যের এই রদবদল নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।

সরিয়ে দেওয়া নাকি স্বেচ্ছা অব্যাহতি?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরোধী দল কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ‘জেন জি’ বা নতুন প্রজন্মের তরুণদের আকৃষ্ট করার চ্যালেঞ্জের কারণেই হয়তো আইটি সেলের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তবে বিজেপি সূত্রগুলো এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক কয়েকটি মাসের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে এই রদবদলকে ব্যাখ্যা করা অত্যন্ত উপরিভাসা এবং ভুল বিশ্লেষণ।

বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরপরই অমিত মালব্য নিজে থেকেই এই পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। এমনকি নিতিন নবীন সভাপতি হওয়ার পরেও মালব্য তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন এবং তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেছিলেন, যা দল বিবেচনায় নেয়।

উত্তর প্রদেশের জাতিগত সমীকরণ

বিজেপির সর্বভারতীয় নতুন কমিটিতে তাৎক্ষণিকভাবে অমিত মালব্যকে অন্য কোনো দায়িত্ব না দেওয়ার পেছনে তাঁর নিজ রাজ্য উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক ও জাতিগত সমীকরণকে কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী বছর উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নতুন সভাপতি নিতিন নবীনের কমিটিতে ইতিমধ্যেই উত্তর প্রদেশ থেকে একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োগ পেয়েছেন হরিশ দ্বিবেদী।

দলীয় সূত্র জানায়, অমিত মালব্য নিজেও ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের হওয়ায় একই রাজ্য থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুজন ব্রাহ্মণকে রাখা রাজনৈতিকভাবে কৌশলগত ছিল না। আবার বয়সের বিচারে জ্যেষ্ঠতার ব্যাপ্তি না থাকায় তাঁকে এখনই জাতীয় উপ-সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের মতো পদে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা কী হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সামাজিক মাধ্যমে উত্থান ও বিতর্কের ইতিবৃত্ত

রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী করতে মালব্যের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। গত ছয় বছর ধরে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সহ-পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন এবং এ বছর তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপির সরকার গঠনে তৃণমূল স্তরে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে দলে সমাদৃত হন।

গত এক দশকে মালব্যের নেতৃত্বে বিজেপির আইটি সেল অভূতপূর্ব বিস্তৃতি লাভ করলেও, নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, মালব্যের আইটি সেল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণ ও অপপ্রচার চালাত।

অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সরকারের সাফল্য তুলে ধরা এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক আক্রমণ ভেস্তে দিতে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ সালে বিজেপির এক্স হ্যান্ডেলের ফলোয়ার ছিল মাত্র ২ থেকে ৩ লাখ, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখে। বিপরীতে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ফলোয়ার সংখ্যা বর্তমানে ১ কোটি ১০ লাখ। ফেসবুকে বিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা যেখানে ১ কোটি ৬০ লাখ, সেখানে কংগ্রেসের প্রায় ৬৭ লাখ। ইউটিউবেও বিজেপির সাড়ে ৬ মিলিয়নের বিপরীতে কংগ্রেসের সাবস্ক্রাইবার প্রায় ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন।

বিজেপির এই ডিজিটাল সাম্রাজ্যের ভিত্তি গড়ে উঠলেও, নতুন সোশ্যাল মিডিয়া প্রধান দীপক মাসকে এবং তাঁর টিমের সামনে এখন নতুন প্রজন্মের ‘জেন জি’ ভোটারদের আকৃষ্ট করা এবং বিরোধী শিবিরের আক্রমণ মোকাবিলা করার নতুন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত