
রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় রুশ তেল কেনা চালিয়ে যাবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে তেল ছাড়ে কিনছে এবং সেই তেলের একটি বড় অংশ আবার বিশ্ববাজারে বিক্রি করে মুনাফাও অর্জন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘তারা একেবারে উদাসীনভাবে রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রের হাতে ইউক্রেনীয়দের মৃত্যু দেখছে। এ কারণে আমি ভারতের ওপর মার্কিন শুল্ক বড় আকারে বাড়াব।’
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘ভারতকে লক্ষ্য করে এমন হুমকি অন্যায্য ও অযৌক্তিক।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব দেশ ভারতের সমালোচনা করছে, তারাই এখনো রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে রুশ তেল কেনা একটি জাতীয় প্রয়োজনীয়তা, যা বিশ্ববাজারের বাস্তবতা থেকেই তৈরি হয়েছে।’
ভারতীয় দুই সরকারি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি সত্ত্বেও ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধ করবে না।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এই প্রেক্ষাপটেই রুশ তেল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরে (এপ্রিল ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৫) ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের তেল আমদানি করেছে। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রাশিয়া থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করে ভারত, যা আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত তাদের মোট চাহিদার ৩৫ শতাংশই পূরণ করে রাশিয়ার তেল দিয়ে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ হামলার পর ইউরোপ রুশ জ্বালানি বর্জন করলে ভারত সেই সুযোগে রুশ তেলের বড় আমদানিকারকে পরিণত হয়। প্রথম বছরেই দেশটি দিনে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের ২ শতাংশের কাছাকাছি। চীন ও তুরস্কও রুশ তেলের বড় ক্রেতা।
২০২৩ সালে ভারতের রুশ তেল আমদানি দ্বিগুণ হয়ে যায়। পাশাপাশি তারা ইউরোপে পরিশোধিত তেলের রপ্তানিও রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়েছে।
গত এপ্রিলে ‘ক্লেপলার’ ডেটা বলছে, বর্তমানে ভারতের রুশ তেল আমদানি বেড়ে গড়ে প্রতিদিন ২১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ছুঁয়েছে, যা ২০২৩ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। আর চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরে রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশ থেকে ভারত গড়ে প্রতিদিন মোট ৪৮ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ভারতে বর্তমানে রুশ তেলের অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ শতাংশে। এই সময়ে রাশিয়া, ইরাক ও সৌদি আরবের পর যুক্তরাষ্ট্র ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে ছিল।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর ভারত কর্মসূচির প্রধান রিচার্ড রসো মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অনিশ্চয়তাপূর্ণ অবস্থান ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে ভারতীয় বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগতও, যা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল। বিশ্লেষকেরা বলেছেন, এই দুর্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুতর প্রভাব ছিল। তাই নেপাল এখন চাইছে, বিশ্বের শীর্ষ তিন কার্বন নিঃসরণকারী দেশ—চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত—যেন এই দুর্যোগের জন্য তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়।
১ ঘণ্টা আগে
চীন-নেপাল সীমান্তের হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ পর আজ বুধবার নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে ১ হাজার ২০৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ৪ হাজার ২১৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন...
২ ঘণ্টা আগে
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে হাহাকার চলছে। মর্গগুলোতে মরদেহ রাখার জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিখোঁজ ও নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
২ ঘণ্টা আগে
রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারকারী এয়ারলাইনসগুলোকে সতর্ক করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন ড্রোন হামলা আরও বাড়ালে রুশ আকাশসীমা কার্যত বন্ধ হয়ে পড়তে পারে।
৫ ঘণ্টা আগে