Ajker Patrika

এবার ট্রাম্পকে ‘এফ বর্গীয়’ গালি দিলেন ড্যানিশ এমপি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
এবার ট্রাম্পকে ‘এফ বর্গীয়’ গালি দিলেন ড্যানিশ এমপি
ট্রাম্পকে ইংরেজি ‘এফ বর্গীয়’ গালি দিয়েছেন ডেনমার্কের এক এমপি। ছবি: সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা নিয়ে আবারও আগ্রাসী অবস্থান নেওয়ায়, এক ডেনিশ আইনপ্রণেতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রতি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে ভাইরাল হয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনসভা ইউরোপীয় পার্লামেন্টে সাম্প্রতিক এক বিতর্কে পার্লামেন্ট সদস্য আন্দার্স ভিস্তিসেন সরাসরি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং তাঁকে ‘এফ বর্গীয়’ গালি দেন।

এক্সসহ একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ৩৮ বছর বয়সী আন্দার্স ভিস্তিসেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। আলোচনার বিষয় ছিল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ এবং ট্রাম্পের ওই আর্কটিক ভূখণ্ড অধিগ্রহণের চাপ। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি তীব্র ভাষায় ট্রাম্পকে আক্রমণ করেন।

ভিস্তিসেন বলেন, ‘প্রিয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, খুব মনোযোগ দিয়ে শুনুন। গ্রিনল্যান্ড ৮০০ বছর ধরে ডেনিশ রাজ্যের অংশ। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত দেশ। এটি বিক্রির জন্য নয়।’ এরপর তিনি যোগ করেন, ‘আমি এমন ভাষায় বলছি, যা হয়তো আপনি বুঝবেন—মিস্টার প্রেসিডেন্ট, ফাক অফ।’ সাধারণত ইংরেজি এই শব্দবন্ধটি কোনো ব্যক্তি শক্ত ভাষায় প্রত্যাখ্যান করা চলে যেতে বলার জন্য ব্যবহার করা হয়।

এরপর ভিস্তিসেন ডেনিশ ভাষায় বক্তব্য চালিয়ে যান। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে থামিয়ে দেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিকোলায়ে স্তেফানুতা। তিনি ভিস্তিসেনের ভাষার কড়া সমালোচনা করেন এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেন।

স্তেফানুতা বলেন, ‘আমি দুঃখিত, প্রিয় সহকর্মী। এটি আমাদের নিয়মের পরিপন্থী।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই চেম্বারে গালাগালি ও অনুপযুক্ত ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট নিয়ম আছে। আপনাকে থামাতে হচ্ছে বলে আমি দুঃখিত। রাজনৈতিক অনুভূতি যতই তীব্র হোক না কেন, এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ এই সতর্কবার্তার পর ভিস্তিসেন তাঁর বাকি বক্তব্য ডেনিশ ভাষায় শেষ করেন।

এই ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দিতে যাওয়ার ঠিক এক দিন আগে ইউরোপীয়দের নিয়ে প্রকাশ্যে বিদ্রূপ করেছেন। সেখানে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নিজেকে কেন্দ্র করে এক ধরনের অন্ধকার, আত্মনির্মিত নাটকের মূল চরিত্র হয়ে ওঠেন। গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আর্কটিক ভূখণ্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে প্রকাশ্য চাপ আরও বাড়িয়েছেন।

ট্রাম্পের দাবি, খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আর্কটিক বরফ গলে যাওয়ার ফলে নতুন সমুদ্রপথ খুলছে এবং এই অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতা বাড়ছে। চাপ বাড়াতে ট্রাম্প ডেনমার্কের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে ইউরোপও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত