Ajker Patrika

ইউরোপে সাতটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইউরোপে সাতটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকি
রায়ানএয়ারের দুটি ফ্লাইট ইতালির রোমে অবতরণের পর তল্লাশি করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাতটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকির পর সেগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে দুটি উড়োজাহাজ যুক্তরাজ্য ছেড়ে গিয়েছিল। তবে কোনো উড়োজাহাজেই বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। বেনামি সূত্র থেকে আসা এসব হুমকির মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ।

রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দর সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন ও পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে ছেড়ে আসা রায়ানএয়ারের দুটি ফ্লাইট ইতালির রোমে অবতরণের পর তল্লাশি করা হয়। ডাবলিন থেকে আসা ফ্লাইটটিকে অবতরণের আগপর্যন্ত ইতালির বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে নিয়ে আসে। অবতরণের পর পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল যাত্রী, লাগেজ ও উড়োজাহাজ পরীক্ষা করে। তবে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মুরসিয়ায় অবতরণ করা রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটেও তল্লাশি চালানো হয়। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে আসা উড়োজাহাজটির এক যাত্রী বিবিসিকে জানান, অবতরণের আগে তাঁরা হুমকির বিষয়ে কিছুই জানতেন না। উড়োজাহাজটি থামার পর প্রায় ৩০ মিনিট রানওয়েতে অপেক্ষা করতে হয়। পরে দমকলের গাড়ি, পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল উড়োজাহাজটি ঘিরে ফেলে। যাত্রীদের মালপত্র ভেতরে রেখেই পুলিশি পাহারায় সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের জানানো হয়, উড়োজাহাজটিকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশগামী দুটি ফ্লাইটও হুমকির কারণে প্রভাবিত হয়। এর একটি লন্ডনের হিথরো থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর ওয়ারশর শোপেন বিমানবন্দরের পরিবর্তে ছোট মডলিন বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ কারণে কিছু সময়ের জন্য মডলিন বিমানবন্দর বন্ধ রাখতে হয়।

বুলগেরিয়ার পরিবহনমন্ত্রী জর্জি পিভ জানান, ইতালির বার্গামো ও ডাবলিন থেকে সোফিয়াগামী দুটি ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অবতরণের পর তল্লাশি চালিয়ে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। দেশটির সীমান্ত পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে পাওয়া একটি ই-মেইলে বার্গামো থেকে আসা ফ্লাইটে অস্থায়ী বিস্ফোরক যন্ত্র থাকার কথা বলা হয়। একই ই-মেইলে ডাবলিন থেকে আসা আরেকটি ফ্লাইটের বিরুদ্ধেও একই ধরনের হুমকি ছিল।

যুক্তরাজ্য সরকার ঘটনাগুলোকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া হুমকি’ বলে অভিহিত করেছে। তবে উড়োজাহাজ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ পল ম্যাসনের মতে, বিভিন্ন এয়ারলাইনসকে লক্ষ্য করে বিশ্বাসযোগ্যভাবে হুমকি দেওয়া হয়ে থাকলে এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিকল্পিত কাজ হতে পারে। আকাশপথের চলাচল ব্যাহত করাই এর উদ্দেশ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যোগসূত্র এখনো পাওয়া যায়নি।

সাবেক পাইলট ও উড়োজাহাজ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মার্কো চ্যান বলেন, বোমা হামলার হুমকিকে সত্যিকারের হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করা হয়, যতক্ষণ না তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজের কর্মীরা শৌচাগার, খাবার প্রস্তুতের জায়গা ও মালপত্র রাখার স্থান পরীক্ষা করেন। সন্দেহজনক কোনো বস্তু নাড়াচাড়া করা হয় না। অবতরণের পর উড়োজাহাজটিকে অন্য উড়োজাহাজ থেকে দূরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়। এরপর যাত্রীদের নামিয়ে পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল তল্লাশি চালায়।

এর আগে গত সোমবার লন্ডনের লুটন থেকে ছেড়ে যাওয়া উইজ এয়ারের একটি ফ্লাইটও বোমা হামলার হুমকির পর হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে জরুরি অবতরণ করে। হাঙ্গেরির একটি যুদ্ধবিমান সেটিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে আসে। তল্লাশিতে অবশ্য কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত