Ajker Patrika

স্পেনের সেউতায় অভিবাসীদের ঢলে নিহত বেড়ে ৭২

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
স্পেনের সেউতায় অভিবাসীদের ঢলে নিহত বেড়ে ৭২
সীমান্ত পার হওয়া অধিকাংশ অভিবাসী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে যাওয়ায় রাস্তায় কেবল ছোট ছোট কয়েকটি দলকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। ছবি: এএফপি

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় গত কয়েক দিনে অভিবাসীদের ব্যাপক ঢলের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে মরক্কো থেকে গত কয়েক দিনে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সাঁতরে বা সীমান্ত পেরিয়ে সেউতায় প্রবেশ করেন। তবে স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ গণ-অভিবাসনের পর তাঁদের বেশির ভাগই আবার মরক্কোতে ফিরে গেছেন।

সেউতায় স্পেন সরকারের প্রতিনিধি মিগেল অ্যাঞ্জেল পেরেজ ত্রিয়ানো সাংবাদিকদের বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৭২। এর আগে মৃতের সংখ্যা ৬৭ বলে জানানো হয়েছিল।

গত বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই অভিবাসী ঢলের পর আজ সেউতায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে। স্পেনের পুলিশ ও সেনারা পুরো এলাকা টহল দেন। সীমান্ত পার হওয়া অধিকাংশ অভিবাসী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে যাওয়ায় রাস্তায় কেবল ছোট ছোট কয়েকটি দলকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।

গতকাল শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপি সেউতার একটি পরিত্যক্ত শিল্প এলাকায় বহু অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীকে অবস্থান করতে দেখে। তাঁদের কেউ কেউ ফুটপাতে ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখানে থাকা ৪১ বছর বয়সী মরক্কোর নাগরিক আজিজ দাবশ এএফপিকে বলেন, ‘এখানে থাকা সবাই স্পেনে যেতে চায়।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তে নিরাপত্তায় বাড়তি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ভূমধ্যসাগরের দিকে বর্ধিত সীমান্ত প্রাচীরের চারপাশে ৫০০ মিটারের একটি নতুন ভাসমান নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন করা হয়েছে এবং স্প্যানিশ সিভিল গার্ড বাসের মাধ্যমে উদ্ধারকৃতদের ফেরত পাঠাচ্ছে।

স্পেন সরকার এই সংকটের জন্য অপরাধী চক্র বা মানবপাচারকারীদের দায়ী করেছে। জানা গেছে, সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় সংক্রান্ত ভুল তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যার কারণে অভিবাসীরা ধরে নেন যে এখন স্পেনে প্রবেশ সহজ হয়ে গেছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই এই ঘটনার পেছনে মরক্কোর নীরব ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। সম্প্রতি মরক্কোর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আলজেরিয়ার সঙ্গে স্পেনের সম্পর্কের উন্নতি হওয়ায়, মাদ্রিদের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে মরক্কো ইচ্ছে করেই সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে দিয়েছিল কি না—সেই প্রশ্নও উঠছে।

এর আগে ২০২১ সালেও একইভাবে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসীকে সীমান্ত অতিক্রম করতে দিয়েছিল মরক্কো। যদিও বর্তমান সংকট নিয়ে মরক্কো সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

সেউতার এই ভয়াবহ অনুপ্রবেশের ঘটনা পুরো ইউরোপে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংকট তৈরি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র মাদ্রিদের শিথিল অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইইউ নেতারা মঙ্গলবার এক জরুরি ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করেছে। ইইউ-এর ২২টি সদস্য রাষ্ট্র একটি যৌথ খোলা চিঠিতে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ঠেকাতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ইতালি ইতিমধ্যেই স্পেনের সঙ্গে তার বিনা ভিসায় চলাচলের ‘শেনজেন চুক্তি’ সাময়িকভাবে এক মাসের জন্য স্থগিত করার কথা ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে, স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইইউ নেতাদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে কিছু ইউরোপীয় দেশের এমন ‘স্বার্থপর’ আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিও রোববার তাঁর বিশেষ প্রার্থনায় সেউতার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত