Ajker Patrika

স্বামীর কাছে ইয়াজিদি মেয়েদের পাঠাতেন স্ত্রী, জার্মানিতে ইরাকি দম্পতির কারাদণ্ড

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
স্বামীর কাছে ইয়াজিদি মেয়েদের পাঠাতেন স্ত্রী, জার্মানিতে ইরাকি দম্পতির কারাদণ্ড
সোমবার মিউনিখের আদালতে এভাবেই মুখ ঢেকে রাখেন এক অভিযুক্ত। ছবি: বিবিসি

ইরাকে দুই ইয়াজিদি মেয়েকে দাস হিসেবে বন্দী ও নির্যাতন করার দায়ে এক ইরাকি দম্পতিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন জার্মানির একটি আদালত। একই সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্য হওয়ার অপরাধেও মিউনিখের উচ্চ আঞ্চলিক আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিবিসি জানিয়েছে, জার্মান গোপনীয়তা আইন মেনে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়েছে তোয়ানা এইচ এস হিসেবে। গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং শিশুদের চরম যৌন নির্যাতনের দায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তার স্ত্রী এশিয়া আর এ-কে ৯ বছর ৬ মাসের কিশোর সাজা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে বাভারিয়া থেকে এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

২০১৪ সাল থেকে আইএস যখন সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে, তখন থেকেই কুর্দিভাষী সংখ্যালঘু ইয়াজিদি সম্প্রদায়কে চরম নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়। আইএসের হামলায় ওই সম্প্রদায়ের হাজার হাজার পুরুষ নিহত এবং নারী ও শিশুরা দাসত্ব ও ধর্ষণের শিকার হয়। জার্মানি এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রসিকিউটরদের মতে, এই দম্পতি ইয়াজিদি ধর্মকে ধ্বংস করার জন্য আইএসের পদ্ধতিগত প্রচারণার অংশ ছিলেন।

যেভাবে অপরাধের সূত্রপাত

তোয়ানা এইচ এস ২০০০-এর দশকের শুরুতে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে জার্মানিতে আসেন এবং মিউনিখে হেয়ারড্রেসার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে মিউনিখের একটি মসজিদে তিনি উগ্রবাদে দীক্ষিত হন এবং ২০১৫ সালে ইরাকে ফিরে যান। সেখানে এশিয়া আর এ-এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

তদন্তকারীদের মতে, ২০১৫ সালের শরতে তোয়ানা তার স্ত্রীর অনুরোধে মোসুলের একটি বাজার থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক ইয়াজিদি মেয়েকে দাস হিসেবে কিনে নেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে তারা ১২ বছর বয়সী আরও এক ইয়াজিদি মেয়েকে কেনেন।

ভয়াবহ নির্যাতনের বিবরণ

প্রসিকিউটররা জানান, তোয়ানা ওই দুটি শিশুকে বারবার ধর্ষণ করেছিলেন। তার স্ত্রী মেয়েগুলোকে সাজিয়ে-গুছিয়ে স্বামীর জন্য ঘর প্রস্তুত করে দিতেন। মেয়ে দুটিকে দিয়ে জোর করে গৃহস্থালির কাজ করানো হতো এবং নিজেদের ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া হতো। সামান্য কারণে তাদের লাঠি বা শক্ত বস্তু দিয়ে মারধর করা হতো। এমনকি এশিয়া একবার ছোট মেয়েটির হাত গরম পানি দিয়ে ঝলসে দিয়েছিলেন।

‘সর্বজনীন এখতিয়ার’ নীতির আওতায় জার্মানির আদালতে এই বিচার সম্পন্ন হয়েছে, যা বিদেশে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের অনুমতি দেয়। আদালতে বড় মেয়েটির জবানবন্দিতে নির্যাতনের লোমহর্ষক বিবরণ উঠে আসে। তবে দ্বিতীয় মেয়েটির সন্ধান এখনো মেলেনি। আদালত কক্ষে এশিয়া তার অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইলেও, তোয়ানা কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত