Ajker Patrika

মেক্সিকোর ‘ফেন্টানিল সম্রাট’ বনে যান এক চীনা স্নাতক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মেক্সিকোর ‘ফেন্টানিল সম্রাট’ বনে যান এক চীনা স্নাতক
মেক্সিকোতে গ্রেপ্তারের পর চীনা নাগরিক ঝাং ঝিদং। ছবি: বিবিসি

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাদকগুলোর একটি ফেন্টানিলের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে অভিযুক্ত চীনা নাগরিক ঝাং ঝিদংকে (অপরাধ জগতে পরিচিত ‘ব্রাদার ওয়াং’) ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিসি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলছে, ৩৯ বছর বয়সী ঝাং মেক্সিকোর সিনালোয়া কার্টেলের সঙ্গে চীনের রাসায়নিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ স্থাপন করে এমন একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ফেন্টানিল, কোকেন ও মেথামফেটামিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাত।

ফেন্টানিল একটি কৃত্রিম ওপিওয়েড, যা হেরোইনের তুলনায় প্রায় ৫০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এর অল্প কয়েকটি লবণের দানার সমান পরিমাণও প্রাণঘাতী হতে পারে। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে এই মাদকের কারণে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে।

বিবিসির অনুসন্ধানে সিনালোয়া কার্টেলের বর্তমান ও সাবেক কয়েক সদস্য ছদ্মনামে কথা বলেছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী—ঝাং ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি চীনের রাসায়নিক কারখানা থেকে ফেন্টানিল তৈরির প্রয়োজনীয় ‘প্রিকার্সর’ রাসায়নিক সংগ্রহ করে মেক্সিকোর গোপন ল্যাবরেটরিগুলোতে পৌঁছানোর পথ তৈরি করেছিলেন। কার্টেলের ‘এনরিকে’ নামে এক সমন্বয়কারী বলেন, ‘ব্রাদার ওয়াং-ই ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনিই ছিলেন এক নম্বর।’

জানা যায়, ২০১০ সালে চীনের মর্যাদাপূর্ণ পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্প্যানিশ ভাষায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন ঝাং। পরের বছর তিনি একটি চীনা খনিশিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে মেক্সিকো যান। পরে ওই প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি মেক্সিকোতে থেকে যান। সাবেক সহকর্মীদের মতে, তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, স্প্যানিশ ভাষায় সাবলীল এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে দ্রুত সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ঝাং একটি বৃহৎ মাদক পাচার ও অর্থপাচার চক্র পরিচালনা করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি সিনালোয়া কার্টেলের শীর্ষ নেতার পরিবারের এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। এই সম্পর্ক তাঁকে সংগঠনের অভ্যন্তরে আরও প্রভাবশালী করে তোলে।

কার্টেলের সদস্য ‘লুইস’ জানান, ২০১৯ সালেই প্রথম তিনি ঝাংকে ফেন্টানিল তৈরির রাসায়নিক উপাদান সরবরাহের প্রস্তাব দিতে দেখেছিলেন। পরে তিনি নিজেই গোপন ল্যাবরেটরিতে ফেন্টানিল প্রস্তুতকারক হিসেবে কাজ শুরু করেন। লুইসের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে এসে নিজের চোখের সামনেই তিনি অন্তত পাঁচ সহকর্মীর মৃত্যু দেখেছেন।

মেক্সিকোর নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঝাংয়ের নেটওয়ার্ক আমেরিকা, ইউরোপ, চীন ও জাপান জুড়ে বিস্তৃত ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে এক হাজার কেজির বেশি কোকেন, ১ হাজার ৮০০ কেজি ফেন্টানিল এবং ৬০০ কেজি মেথামফেটামিন পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বছরে প্রায় ১৫ কোটি ডলারের মাদক ব্যবসার অর্থ পরিচালনার অভিযোগও আনা হয়েছে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে মেক্সিকোতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালত ঝাংকে গৃহবন্দী রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু ঝাং দেওয়ালে তৈরি একটি গোপন পথ দিয়ে পালিয়ে ব্যক্তিগত বিমানে কিউবা হয়ে রাশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে জাল কাগজপত্র ধরা পড়লে তাঁকে আবার কিউবায় ফেরত পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কে বিচারাধীন এবং নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ঝাংয়ের গ্রেপ্তারের পর সাময়িকভাবে ফেন্টানিল তৈরির কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। তবে মাদক চক্রগুলো দ্রুত নতুন মধ্যস্থতাকারী খুঁজে নিয়েছে। কার্টেলের এক সদস্য বলেন, ‘একজন চলে গেলে আরেকজন তার জায়গা নেবে। এই ব্যবসা থেমে থাকবে না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত