Ajker Patrika

পুতিনকে চিঠি দিয়ে জেলেনস্কির মুখোমুখি বসার প্রস্তাবকে কীভাবে নিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
পুতিনকে চিঠি দিয়ে জেলেনস্কির মুখোমুখি বসার প্রস্তাবকে কীভাবে নিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি। ছবি: আনাদুলু এজেন্সি

ইউক্রেন ও রাশিয়ার চলমান যুদ্ধাবস্থায় একটি বড় রাজনৈতিক মোড় দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে সরাসরি একটি খোলা চিঠি পাঠিয়ে মুখোমুখি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর পুতিনকে লেখা জেলেনস্কির এটিই প্রথম প্রকাশ্য চিঠি। চিঠিতে পুতিনের ২৬ বছরের শাসনকালের তীব্র সমালোচনাও করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

শুক্রবার (৫ জুন) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ জানায়, জেলেনস্কি একটি নিরপেক্ষ তৃতীয় কোনো দেশে (যেমন: সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক বা কোনো আরব দেশ) এই বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব করেছেন। একই সঙ্গে আলোচনার সময় পূর্ণ যুদ্ধবিরতি এবং দুই পক্ষ থেকে সব বন্দীকে মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

আমেরিকার অবস্থান ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

প্রতিবেদনে বলা হয়—যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত থাকায়, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের জন্য ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে না থেকে জেলেনস্কি নিজেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেছেন, জেলেনস্কি ও পুতিনের সাক্ষাৎ হওয়াটা হবে একটি দারুণ ব্যাপার। তবে তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধ থামাতে উভয় পক্ষকেই কিছু ‘আপস’ বা সমঝোতা করতে হবে।

অন্যদিকে, মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য একটি নতুন বিল পাস করেছে। বিষয়টিকে ট্রাম্পের যুদ্ধ নীতির প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এক ধরনের অধৈর্যতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বিলের মাধ্যমে ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যদিও এটি সিনেটে পাস হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি ও পুতিনের বক্তব্য

জেলেনস্কি এমন এক সময়ে এই আলোচনার প্রস্তাব দিলেন যখন ইউক্রেন দূরপাল্লার ড্রোন হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার ভেতরে বেশ কিছু সফল আঘাত হেনেছে। সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের অর্থনৈতিক ফোরাম শুরুর ঠিক আগেই ড্রোন হামলায় সেখানকার একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। পুতিন নিজেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে এবং এটি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তবে পুতিন জানিয়েছেন, আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া শীর্ষ বৈঠকের সমঝোতা অনুযায়ী আপস করতে প্রস্তুত রাশিয়া। সে ক্ষেত্রে ইউক্রেনকে শর্তগুলো মানতে হবে।

জেলেনস্কির দাবি ও ক্রেমলিনের প্রতিক্রিয়া

জেলেনস্কি তাঁর চিঠিতে দাবি করেছেন—রাশিয়ার স্থল অভিযান ব্যর্থ হওয়ায় তারা এখন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভর করছে এবং যুদ্ধকে ২০২৭-২০২৮ সাল পর্যন্ত টেনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। মে মাসেই রাশিয়ার ৩০ হাজারের বেশি সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছে যার ভিডিও প্রমাণ ইউক্রেনের কাছে আছে। তিনি আরও বলেন, ড্রোন হামলা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে রাশিয়া এখন বেশ চাপে রয়েছে।

এই চিঠির জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, পুতিন বার্তাটি সম্পর্কে জানেন তবে বিস্তারিত এখনো পড়েননি। পেসকভ বলেন, ‘জেলেনস্কি চাইলে আলোচনার জন্য মস্কোতে আসতে পারেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত