Ajker Patrika

যুক্তরাজ্যে কোকেন সেবনের পর অচেতন, দুবাইয়ের রাজবধূ কে এই মাহরাহ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ২৪
যুক্তরাজ্যে কোকেন সেবনের পর অচেতন, দুবাইয়ের রাজবধূ কে এই মাহরাহ
ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানী আবুধাবির প্রভাবশালী রাজপরিবার আল নাহিয়ান। এই রাজপরিবারের সদস্য মাহরাহ আল নাহিয়ান যুক্তরাজ্যে মাদকসংক্রান্ত একটি ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে পশ্চিম লন্ডনের একটি রাস্তায় কোকেন সেবনের পর অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায় ৩২ বছর বয়সী মাহরাহ আল নাহিয়ানকে। তাঁর পাশেই অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন অপর এক পুরুষ সঙ্গী।

এ সময় ঠিক তাঁদের কাছাকাছিই ব্যস্ত রাস্তার পাশে জুতো ছাড়া খালি পায়ে একা একা খেলছিল তিন বছর বয়সী একটি শিশু। শিশুটির নিরাপত্তাঝুঁকির কথা ভেবে স্থানীয় পথচারীরা এগিয়ে এসে তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখেন এবং পুলিশে খবর দেন।

পরে জরুরি সেবা ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাহরাহর কাছ থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে। তবে কোনো অবৈধ মাদকদ্রব্য পায়নি। জ্ঞান ফেরার পর অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় তিনি পুলিশ ও উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এটি কোনো কসাইখানা নয়, তোমরা এত উদ্বিগ্ন কেন? কেন এত চিন্তা করছ?’

কে এই মাহরাহ আল নাহিয়ান

আদালতের নথিপত্র থেকে জানা যায়, মাহরাহ আল নাহিয়ান মূলত বিয়ের সুবাদে আবুধাবির শাসক পরিবার ‘আল নাহিয়ানের’ সঙ্গে যুক্ত হন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাতটি আমিরাতের (প্রদেশ) মধ্যে আবুধাবির শাসক এই আল নাহিয়ান পরিবার বিশ্বের অন্যতম ধনী রাজবংশ হিসেবে পরিচিত। নিউইয়র্ক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিবারের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন বা তারও বেশি (আনুমানিক ৩০ হাজার কোটি ডলার)। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে মাহরাহ আল নাহিয়ান প্রতি মাসে আট হাজার ইউরো বা সমপরিমাণ ভাতা পেয়ে থাকেন।

এ ঘটনায় শিশুর প্রতি অবহেলার দায়ে আদালতে দোষ স্বীকার করেন মাহরাহ আল নাহিয়ান। তাঁর আইনজীবী স্টিফেন ভুল্লো জানান, তিনি তাঁর আচরণের জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং আসক্তি কাটিয়ে ভালো হতে চান।

ঘটনার পর থেকে তিনি যুক্তরাজ্যের সারের ওকিংয়ে অবস্থিত দ্য প্রিওরি ক্লিনিকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি মাসেই তাঁর তিন মাসের পুনর্বাসন কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তিনি ক্লিনিকের কাছাকাছি বাসা ভাড়া নিয়ে ডে-পেশেন্ট হিসেবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

আদালত শিশু সুরক্ষায় অবহেলার দায়ে তাঁকে দুই বছরের কমিউনিটি অর্ডার (কারাদণ্ডের বিকল্প একধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা) এবং বাধ্যতামূলক পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁকে আট হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত