
শ্রীলঙ্কার গোয়েন্দা সংস্থা স্টেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সুরেশ সাল্লি আজ বুধবার সকালে দেশটির ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি একটি থিংকট্যাংকে নিজের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি সেখানে গবেষণা ও নীতিগত বিশ্লেষণের কাজে যুক্ত ছিলেন। ঘটনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো জানায়, নিয়মিত কর্মস্থলে যাওয়ার সময়ই তাঁকে আটক করা হয়।
শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের দুই ঘণ্টার বেশি সময় পর সিআইডির একাধিক দল—যাদের সংখ্যা প্রায় পাঁচটি বলে জানা গেছে—সমন্বিতভাবে তাঁর বাসভবনে তল্লাশি শুরু করে। নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। তবে তল্লাশির উদ্দেশ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
অবসরপ্রাপ্ত এই মেজর জেনারেল আগে সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি স্টেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের প্রধান হন। তিনি ছিলেন প্রথম সেনা কর্মকর্তা, যিনি দেশের প্রধান বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্ব দেন। সে সময় তাঁর নিয়োগকে গোয়েন্দাকাঠামোর নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সামরিক ও বেসামরিক নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ার প্রতিফলন ছিল এই সিদ্ধান্ত।
এ বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো বলছে, ২০১৯ সালের ইস্টার সানডে হামলার চলমান তদন্তের সঙ্গে এই গ্রেপ্তারের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। সাবেক এই গোয়েন্দাপ্রধান এর আগে লিখিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তদন্তাধীন ঘটনাগুলোর সঙ্গে বা সংশ্লিষ্ট কোনো অনিয়মের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তদন্তের আগের ধাপগুলোতে আইনজীবীদের মাধ্যমে তিনি এসব অস্বীকারপত্র জমা দেন।
এ পর্যন্ত গ্রেপ্তারের আইনি ভিত্তি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে নাকি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক রাখা হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়। অভিযানের আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও কোনো প্রকাশ্য নিশ্চিতকরণ নেই। মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁরা শুধু বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে।
আইনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে তদন্তকারীরা আদালতের অনুমোদন নিয়ে তাঁর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তদন্ত চলাকালে তাঁকে দেশের ভেতরে থেকে কর্তৃপক্ষের জন্য প্রাপ্য থাকতে বলা হয়েছিল।
এর আগে, ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের সকালে রাজধানী কলম্বোসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে সিরিজ আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। সেদিন মোট আটটি স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে। এর মধ্যে কলম্বোর সেন্ট অ্যান্থনি শ্রাইন, নেগোম্বোর সেন্ট সেবাস্টিয়ান চার্চ ও বাটিকালোয়ার জায়ন চার্চে প্রার্থনারত মানুষের ওপর হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি সাংরি-লা, কিংসবারি ও সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলেও বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এই হামলায় ৪৫ জন বিদেশিসহ ২৬৯ জন নিহত হন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন।
শ্রীলঙ্কার স্থানীয় চরমপন্থী গোষ্ঠী ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। তবে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল। হামলার প্রধান হোতা হিসেবে জাহরান হাশিমের নাম সামনে আসে।
এ ঘটনার সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা ছিল গোয়েন্দা তথ্যের অবহেলা। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে শ্রীলঙ্কা সরকারকে আগেভাগেই সতর্ক করেছিল। কিন্তু তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের মধ্যকার রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পরে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্ট এই ব্যর্থতার জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট সিরিসেনাসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জরিমানা করার আদেশ দেন।
এই হামলার পর শ্রীলঙ্কার পর্যটনশিল্পে ধস নামে, যা দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া নিরাপত্তার খাতিরে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয় এবং মুখ ঢাকা পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বাংলাদেশের জন্য ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত শোকের, কারণ সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরী নিহত হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান, এই চুক্তিটি নিশ্চিত করার আগে তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘চমৎকার’ আলোচনা করেছেন। তিনি আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন দুই
৭ ঘণ্টা আগে
উদ্বেগের বিষয় হলো, যেহেতু দুই দেশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে, তাই ইরান তাদের মাইনের বিস্তারিত মানচিত্র যুক্তরাষ্ট্রের হাতে দেবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের জন্য একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৮ ঘণ্টা আগে
গত সপ্তাহে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হলেও মধ্যস্থতাকারী ও সহায়তাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা শেষ হয়ে যায়নি। বরং এই প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। তিনি জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বর্তমানে একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে ইরান সফর করছেন।
৯ ঘণ্টা আগে