Ajker Patrika

গরম থেকে বাঁচতে কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ উত্তর কোরিয়ায়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ৪৫
গরম থেকে বাঁচতে কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ উত্তর কোরিয়ায়
উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করছেন নারীরা। ছবি: এএফপি

উত্তর কোরিয়ায় চলমান রেকর্ড তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জনগণকে কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ঐতিহ্যগতভাবে এই খাবার শরীরকে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম সহ্য করার শক্তি জোগায়। একই সঙ্গে তরমুজ, শসা, মুগডাল, মাছের পোরিজ, লাল শিমের পোরিজ এবং জিনসেং-সমৃদ্ধ মুরগির স্যুপও খাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার দেশটির তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা দেশটিতে আবহাওয়া রেকর্ড সংরক্ষণ শুরুর পর সর্বোচ্চ। কোরীয় উপদ্বীপে বছরের সবচেয়ে উষ্ণ সময়কে স্থানীয়ভাবে ‘সামবক’ বা ‘ডগ ডেজ অব সামার’ বলা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা পরামর্শ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে সরকারি সংবাদমাধ্যম।

শাসকদলীয় পত্রিকা ‘রোদং সিনমুন’ ২ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পিয়ংইয়ং জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় কুকুরের মাংসের স্যুপের নাম উল্লেখ করে। পরে এ খাবারকে কেন্দ্র করে আলাদা একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। সেখানে একটি পুরোনো প্রবাদ উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘গ্রীষ্মের সবচেয়ে গরম দিনে কুকুরের মাংসের স্যুপ পায়ের ওপর পড়ে গেলেও তা ওষুধের মতো কাজ করে।’ প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের শুরুতে দেশে জাতীয় কুকুরের মাংস রান্না প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জিনসেং, আঠালো চাল ও খেজুর দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী মুরগির স্যুপ সামগিয়েতাং-এরও প্রশংসা করেছে। তাদের দাবি, পিয়ংইয়ংয়ের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় গরম থেকে স্বস্তি পেতে এই খাবারের চাহিদা বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পর্যাপ্ত পানি পান, সাঁতার এবং নিরাপদভাবে শরীরচর্চার পরামর্শও প্রচার করছে।

তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ায় কোনো মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় এই তাপপ্রবাহে ২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে সরকারি সংবাদমাধ্যম বরাবরের মতোই প্রচারণায় তুলে ধরছে নেতা কিম জং উনের ‘জনগণের সঙ্গে কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার’ চিত্র। ২০১৩ সালের এক নির্মাণস্থল পরিদর্শনে প্রচণ্ড গরমে তার জামাকাপড় ঘামে ভিজে যাওয়ার ঘটনা, ২০১৮ সালে পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে সফর এবং প্রচণ্ড তাপমাত্রার মধ্যেও একটি খাদ্য কারখানা পরিদর্শনের পুরোনো ঘটনাগুলো নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে। তবে চলমান তাপপ্রবাহের সময় কিম জং উনের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সময়ে সমুদ্রসৈকত, জলপার্ক ও পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ভিড়ের ছবিও সম্প্রচার করছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত