Ajker Patrika

দাদা-দাদিকে হত্যার পর স্কুলে গিয়ে গুলি করে কিশোর, থাইল্যান্ডে নিহত ৮

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ৫৮
দাদা-দাদিকে হত্যার পর স্কুলে গিয়ে গুলি করে কিশোর, থাইল্যান্ডে নিহত ৮
থাইল্যান্ডের ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ছবি: বিবিসি

থাইল্যান্ডের ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত আটজন নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় হামলাকারী অষ্টম শ্রেণির (মাথাইয়োম-২) এক শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে স্কুল ভবনের ভেতর থেকে তারও মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছে।

থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্ট জানিয়েছে, ঘটনার পর তদন্তকারীরা হামলাকারীর ব্যাং বুয়া থং এলাকার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ৭৩ বছর বয়সী দাদা ও ৭৪ বছর বয়সী দাদির মরদেহও উদ্ধার করেছে। দুজনের মাথায়ই গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, স্কুলে হামলার আগে তাঁদেরও হত্যা করেছে ওই কিশোর। তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময়ক্রম এখনো তদন্তাধীন।

স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে স্কুলে গুলির খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, বেগুনি রঙের শারীরিক শিক্ষা ইউনিফর্ম পরা হামলাকারী স্কুল প্রাঙ্গণে ২৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আরও ৩৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। হামলাকারীর কাছে একটি নাইন-মিলিমিটার পিস্তল ছিল।

দেশটির জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী পাত্তানা প্রমফাত জানান, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন শিক্ষক, হামলাকারী ও তার দাদা-দাদি রয়েছেন। আহত ২২ জনের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, হামলাকারী স্কুলের তিনতলার একটি কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। অভিযান শেষে সেখানে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা অস্ত্র পরীক্ষা, আলামত সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। হামলার উদ্দেশ্য ও পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এই হামলাকে ‘সুনিপুণভাবে পরিকল্পিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

এটি সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ডে স্কুলে অন্যতম ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সঙখলা প্রদেশের একটি স্কুলে ১৭ বছর বয়সী এক বন্দুকধারীর হামলায় কয়েকজন আহত হন এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক পরে মারা যান। এ ছাড়া ২০২২ সালের অক্টোবরে নং বুয়া লাম ফু প্রদেশের একটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার হামলায় ৩৭ জন নিহত হয়েছিল, যাদের মধ্যে ২২ শিশু ছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত