Ajker Patrika

জাপানের নির্বাচনে ভূমিধস জয় ‘লৌহমানবী’ তাকাইচির

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
জাপানের নির্বাচনে ভূমিধস জয় ‘লৌহমানবী’ তাকাইচির
জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন জোট রোববারের জাতীয় নির্বাচনে অভূতপূর্ব জয় পেয়েছে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে কর ছাড় ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হলো।

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের আদলে নিজেকে ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে তুলে ধরা তাকাইচি জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২৮টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এলডিপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩ আসন অতিক্রম করে। এটি দলটির ইতিহাসে অন্যতম সেরা নির্বাচনী ফল হতে যাচ্ছে।

জাপান ইনোভেশন পার্টির (ইশিন) সঙ্গে জোট করে তাকাইচি সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ আসনের নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছেন। ফলে উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও তিনি আইন পাসের ক্ষেত্রে সেখানে ভেটো অতিক্রম করতে পারবেন।

নির্বাচনের ফল আসার সময় এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তাকাইচি বলেন, ‘এই নির্বাচন ছিল বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের নির্বাচন—বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও রাজস্বনীতিতে বড় পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা জোরদারের প্রশ্নে। এসব নীতি নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতা ছিল। জনগণ যদি আমাদের সমর্থন দিয়ে থাকে, তাহলে আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হবে।’

৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি গত বছরের শেষ দিকে এলডিপির নেতৃত্বে আসেন। নিজের জনপ্রিয়তা কাজে লাগাতেই তিনি বিরল এই আগাম নির্বাচন ডেকে বসেন।

এই নির্বাচনে রেকর্ড তুষারপাতের মধ্যেই ভোট দিতে বের হন সাধারণ মানুষ। দেশের কিছু এলাকায় তুষারঝড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়, এমনকি কয়েকটি ভোটকেন্দ্র আগেভাগে বন্ধও করে দিতে হয়। যুদ্ধোত্তর জাপানের ইতিহাসে এটি ছিল ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত মাত্র তৃতীয় জাতীয় নির্বাচন।

তাকাইচির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল খাদ্যপণ্যের ওপর ৮ শতাংশ ভোগকর স্থগিত করা, যাতে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা পরিবারগুলো স্বস্তি পায়। তবে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরকারি ঋণের বোঝা থাকা জাপান এই কর ছাড়ের অর্থ কীভাবে জোগাবে—তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন।

তাকাইচি বলেন, তিনি দ্রুত কর ছাড়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন, তবে একই সঙ্গে রাজস্ব স্থিতিশীলতার দিকেও নজর রাখবেন।

লন্ডনভিত্তিক ডাইওয়া ক্যাপিটাল মার্কেট ইউরোপের গবেষণা প্রধান ক্রিস স্কিক্লুনা বলেন, ভোগকর কমানোর পরিকল্পনায় অর্থায়ন নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। হিসাবটা তিনি কীভাবে মিলাবেন, সেটাই এখন মূল উদ্বেগ।

জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কেইদানরেনের প্রধান ইয়োশিনোবু সুতসুই তাকাইচির জয়কে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, জাপানের অর্থনীতি এখন টেকসই ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনের এক সংকটকালীন সন্ধিক্ষণে রয়েছে।

এর আগে তাকাইচির পূর্বসূরি শিগেরু ইশিবার সময় গত ১৫ মাসে একাধিক নির্বাচনে এলডিপি সংসদের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল।

তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায় করে তাকাইচি দলটির ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁকে ঘিরে ‘সানাকাতসু’ বা ‘সানায়ে-উন্মাদনা’ও দেখা গেছে। সংসদে ব্যবহৃত তাঁর হ্যান্ডব্যাগ ও গোলাপি কলম পর্যন্ত ভক্তদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে তাকাইচিকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং আগামী মাসে তাঁকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেন।

অন্যদিকে, চীন এই ফলাফল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষমতায় আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাকাইচি প্রকাশ্যে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের সম্ভাব্য অবস্থান তুলে ধরে বেইজিংয়ের সঙ্গে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনার জন্ম দেন। এর জবাবে চীন তাদের নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণ না করার আহ্বানসহ একাধিক পাল্টা পদক্ষেপ নেয়।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিংতে প্রথম দিকেই তাকাইচিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁর জয় ‘জাপান ও এই অঞ্চলের অংশীদারদের জন্য আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ’ বয়ে আনবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মাথায় গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা আশরাফুল মারা গেছেন

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ভারত-আওয়ামী লীগ বিদ্বেষ তীব্র হয়: সাবেক সেনাপ্রধানের জবানবন্দি

আইসিসি-পিসিবির সঙ্গে জরুরি মিটিংয়ে হঠাৎ লাহোরে বিসিবি সভাপতি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শেষ সময়ে এমপিওর তোড়জোড়

১০ ফেব্রুয়ারি শ্রমিকদের ছুটির বিষয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত